পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা বিশেষ ভিজিএফ চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের নির্ধারিত ৮০ কেজি চালের বিপরীতে জেলেদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪৮ থেকে ৫৮ কেজি। অর্থাৎ, প্রতি কার্ডধারী জেলের প্রাপ্য অংশ থেকে ২০ থেকে ৩২ কেজি পর্যন্ত চাল হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় দরিদ্র জেলেদের মূল কার্ড আটকে রেখে ছোট স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং কম চাল নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ রয়েছে, প্রতি ৩০ ও ৫০ কেজির বস্তা থেকেও ২-৩ কেজি করে চাল সরিয়ে রাখা হচ্ছে এবং পরিবহন খরচের নামে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে অবৈধভাবে আদায় করা হচ্ছে।
জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চার মাস নিবন্ধিত জেলেদের প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। প্রথম দুই মাসের (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) মোট ৮০ কেজি চাল বর্তমানে বিতরণ করা হচ্ছে। ধুলাসার ইউনিয়নের ১,৪৫০ জন জেলের জন্য বরাদ্দ করা চাল থেকে গড়ে ২৫ কেজি করে কম দিলেও, মোট প্রায় ৩৬ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
চাল নিতে আসা কাউয়ারচর গ্রামের জুয়েল হাওলাদারসহ একাধিক জেলে আক্ষেপ করে জানান, বস্তায় চাল কম দেওয়ার প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারি সহায়তার চাল নিয়ে এমন হরিলুটের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাধারণ জেলেরা দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিনিধি/এসএস

