তীব্র ডিজেল সংকটে বরগুনা জেলার পরিবহন ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জেলার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল তরমুজে। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উৎপাদিত তরমুজ বাজারজাত করতে না পেরে চরম লোকসানে পড়েছেন হাজারো কৃষক। অনেক ক্ষেত্রেই পাকা তরমুজ ক্ষেতেই পড়ে নষ্ট হচ্ছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার আঠারোগাছিয়া, হলদিয়া, চাওড়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, কড়াইবাড়িয়া, সোনাকাটা, এম বালিয়াতলী, ঢলুয়া, বুড়িরচর, আয়লা-পাতাকাটা, নলটোনা, কালমেঘা, কাদিরাবাদ, হোসনাবাদ, বদরখালী ও শারিকখালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে এবার ব্যাপক তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় ফলন ভালো হলেও বাজারজাতকরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি সংকট।
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রমজান মাসে যারা তরমুজ বাজারজাত করতে পেরেছেন তারা তুলনামূলকভাবে লাভবান হয়েছেন। তবে ঈদের পর যারা তরমুজ তুলেছেন, তারা বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, ডিজেলের অভাবে ট্রাক, পিকআপ ও নৌযান স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। ফলে দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সময়মতো তরমুজ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন ফসল নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দামও তলানিতে নেমে গেছে।

বিজ্ঞাপন
তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের তরমুজ চাষি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতি একর জমিতে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন পরিবহন সংকটের কারণে তরমুজ বাজারে নিতে পারছি না। অনেক তরমুজ খেতেই পচে যাচ্ছে। এভাবে চললে আমরা দেউলিয়া হয়ে যাব।
আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুল লতিফ মাতুব্বর বলেন, অনেক আশা নিয়ে তরমুজ চাষ করেছিলাম। কিন্তু পরিবহন সংকটে ক্ষেতেই তরমুজ নষ্ট হচ্ছে। বিনিয়োগের টাকা ওঠানোই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরেক কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, আগে সহজেই ট্রাক পাওয়া যেত। এখন ডিজেলের অভাবে গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। পেলেও ভাড়া দ্বিগুণের বেশি, যা আমাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
বরগুনা শহরের আড়তদার মো. শাহীন বলেন, ডিজেল সংকটের কারণে বাইরে থেকে পাইকাররা আসতে পারছেন না। ফলে স্থানীয় বাজারে তরমুজের চাপ বেড়ে গেছে, দাম কমে গেছে।
আরেক আড়তদার মো. মনিরুল আলম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাজার আবার চাঙ্গা হতে পারে। কিন্তু এখন চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়েই ক্ষতির মুখে।

বরগুনা জেলা মানবাধিকার সংস্থার সহ-সভাপতি ডা. গোলাম কবির বলেন, কৃষকদের এই দুরবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, এ বছর জেলায় তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। তবে পরিবহন সংকটের কারণে কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। তিনি বলেন, চাষিরা স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে পাম্প থেকে প্রয়োজনীয় ডিজেল নিতে পারবেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
প্রতিনিধি/টিবি

