সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

মাদারীপুরে এক ঘটনায় ৩ মামলা, ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

জেলা প্রতিনিধি, মাদারীপুর
প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৬ এএম

শেয়ার করুন:

মাদারীপুরে এক ঘটনায় ৩ মামলা, ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা
মাদারীপুরে এক ঘটনায় ৩ মামলা। ছবি: ঢাকা মেইল

মাদারীপুরে একটি মারামারি ঘটনায় তিনটি মামলা হওয়ায় প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার ঘটনায় মামলা হলে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কোনো তদন্ত ছাড়াই ৮ দিন পর আরেকটি মামলা নেয় পুলিশ। 

এছাড়া পরে ৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে আদালতে হাজির করে আরো একটি মামলা করে প্রতিপক্ষ। এতে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও পুলিশ বলছে, তদন্ত করেই নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিন ঘুরে এলাকাবাসী সূত্র ও মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ১৫ বছর আগে শরিয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পোড়াগাছা এলাকার জলিল মাতুব্বরের মেয়ে মুক্তা আক্তার সাথে বিয়ে হয় মাদারীপুর সদর উপজেলার চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের হারুন মোল্লার ছেলে সোহেল মোল্লার। পারিবারিক কলহের জেরে এক বছর ধরে মুক্তার সাথে যোগাযোগ নেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। এরই মধ্যে গোপনে সোহেল আরেকটি বিয়ে করে বিদেশ চলে যায় এমন খবরে মুক্তার মামা বাতেন মাতুব্বরসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ২৪ মার্চ মঙ্গলবার রাতে সোহেলের পরিবারের কাছে বিষয়টি জানতে যান। 

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহেলের নানা আযাহার মাতুব্বর লোকজন নিয়ে মুক্তার পবিবারে ওপর হামলা চালায়। আহত হয় চারজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। পরে আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় মুক্তার মামা বাদী হয়ে আযাহারসহ ১৭ জনের মামলা থানায় মামলা করেন। মাঈনুল নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরই জেরে ২৯ মার্চ আদালতে আযাহারের ৫৫ বছর বসয়ী স্ত্রী হাসিয়া বেগম বাদী হয়ে বাতেনসহ ১২ জনের নামে মামলা করেন। 

এরপর পহেলা এপ্রিল ওই এলাকার মৃত নুর মাদবরের ৭০ বছরের বৃদ্ধা স্ত্রী মালেকা বেগমকে বাদী করে থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ উঠেছে পুলিশকে ম্যানেজ করে ঘটনার ৮ দিন পর থানায় মামলা করে প্রতিপক্ষ। এখন ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ভুক্তভোগীরা।

তবে, পরের দুটি মামলার বাদী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রথম মামলায় আসামি গ্রেফতারের পর আতঙ্কে বাধ্য হয়ে মামলা করেছেন তারা। অবশ্য, পুলিশ বলছে, পাল্টাপাল্টি মামলায় নির্দোষ কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না। তদন্ত করেই আদালতে দেওয়া হবে অভিযোগপত্র।


বিজ্ঞাপন


প্রথম মামলার বাদী বাতেন মাতুব্বর বলেন, ‘আমাদের পরিবারের লোকজনকে কুপিয়ে আহত করার পর থানায় মামলা হয়। এই মামলায় এক আসামি গ্রেফতার করলেই বিবাদীপক্ষ আমাদের নামে দুটি মামলা করে। এক্ষেত্রে আমরা ন্যায় বিচার পাবো কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহে আছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও  মামলার আসামি কয়েকজন জানান, ‘থানা পুলিশ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ঘটনার এক সপ্তাহ পরে ৭১ বছর বয়সী এক নারীর অভিযোগ মামলার হিসেবে নিয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা খুবই হতাশাগ্রস্ত। রাতে আমরা ঘরে ঘুমাতেও পারিনা গ্রেফতার আতঙ্কে। জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে ন্যায় বিচার পাই।’

আদালতে দায়ের করা মামলার বাদী হাসিয়া বেগম বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি তাই আমরা করেছি। আইনে যা হয় তাই বুঝব।’

থানায় দায়ের করা দ্বিতীয় মামলার বাদী মালেকা বেগমের দুই মেয়ে সামচুন্নাহার ডলি ও সাহানুর বেগম বলেন, ‘আমরা তো প্রথমে মামলাই করতে চাই নাই। যখন আমাদের লোকদেরকে পুলিশে ধরে নিয়ে যায়, তারপর আমরা মামলা করেছি। কী করবে, এলাকার লোকজন মীমাংসার কথা বলেও তা করেনি। আমরা থানা পুলিশকে ম্যানেজ করেই মামলা করছি।’

এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পুলিশকে ম্যানেজ করে মামলা করার কোনো সুযোগ নেই। প্রথম মামলার আসামিপক্ষ কাউন্টার হিসেবে দ্বিতীয় মামলা করেছে। ফৌজদারি ঘটনায় যে কোনো সময় মামলা করতে পারে ক্ষতিগ্রস্তরা নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তবে, তদন্তছাড়া কাউকেই হয়রানি করা হবে না।’

মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘একটি ঘটনায় তিন মামলা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দুটি মামলা থানায় হয়েছে, এটিই বহাল থাকবে। আর আদালতে দায়েরকৃত মামলার বিষয়টি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। মারামারিকে কেন্দ্র করে থানায় দায়েরকৃত মামলায় কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হবে না। গভীরভাবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এআরএম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর