সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

‘হাম-রুবেলা প্রতিরোধে প্রচারণায় যথাযথ মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি’

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৭ এএম

শেয়ার করুন:

‘হাম-রুবেলা প্রতিরোধে প্রচারণায় যথাযথ মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি’
‘হাম-রুবেলা প্রতিরোধে প্রচারণায় যথাযথ মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি’ (ফাইল ছবি)

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ব্যর্থতা এবং নানা কারণে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে প্রচারণা ও নিয়ন্ত্রণে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মহেশখালী ও রামু উপজেলায় হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।


বিজ্ঞাপন


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে, যাতে এই রোগ আর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়ে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব জেলায় তা সম্প্রসারণ করা হবে।

সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে হামজনিত শিশুমৃত্যু শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে কক্সবাজারের রামু ও মহেশখালী উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হবে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই টিকা প্রদান করা হবে। তবে যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে, তাদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


এদিকে জেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৫ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং ২১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৪২ জন শিশু। একই সময়ে রামু উপজেলার রাজিয়া নামে এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

এ পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রামুতে ২ জন এবং মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও সদর উপজেলায় একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ৭৫ জন শিশু।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত এক সপ্তাহে জেলায় ১৩২ জন শিশু হাম আক্রান্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সদর হাসপাতালে ৯৩ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং এ সময়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৫ জনে।

জেলার মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি এবং কক্সবাজার শহরের কালুর দোকান, পাহাড়তলী ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

তবে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো শিশু আক্রান্ত হয়নি বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে পৃথক ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ চালু করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম।

স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, আক্রান্ত এলাকায় জরিপ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল বিতরণসহ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

/এএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর