চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি পৌরসভা ও তিনটি উপজেলাকে হামের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর প্রেক্ষিতে রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় একযোগে ওই তিন স্থানে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। ২৫০ শয্যা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
এই কার্যক্রমের আওতায় জেলায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৭ শিশুকে টিকা দেওয়া হবে বলে জানান, সিভিল সার্জন একেএম শাহাব উদ্দিন। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এই টিকার আওতায় আনা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রার ৯৫ শতাংশ শিশুকে বিশেষ টিকার আওতায় আনা গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। ইতোমধ্যেই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা, সদর উপজেলা, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে বিশেষ টিকা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। প্রার্দুভাব বেশি থাকলেও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও লোকবল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতীয় সীমান্তে জিরো লাইনে সোনামসজিদ ইমিগ্রেশনে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. মুশা জঙ্গী বলেন, সবচেয়ে বেশি প্রার্দুভাব হওয়া ৩০টি উপজলার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জেই রয়েছে তিনটি উপজেলা রয়েছে। আমরা গত বৃহস্পতিবার হাম প্রতিরোধে বিভাগীয় কমিশনার ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের উপস্থিতি করণীয় নিয়ে আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়েছিল। আমরা আশা করছি, আর সংক্রমণ বাড়বে না। কারণ ইতোমধ্যে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর আগে যারা হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে, ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে বোঝা যাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২৮ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রোববার সকালে ২৫০ শয্যা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আইসোলেশন কর্নারে ভর্তি রয়েছে ৬০ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা হাসপাতালের হাম আইসোলেশন কর্নার থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন ২৩ শিশু। জেলায় গত ৩ মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৬৪ জন রোগী এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, হামের সংক্রমণ বাড়ায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসক-নার্সরা। রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছে হাসপাতালের মেঝেতে। টিকা না নেয়ায় এমন অতিরিক্ত রোগীর চাপ বলছেন চিকিৎসকরা। সুস্থ শিশুদের আপদকালীন সময়ে অসুস্থ বা জ্বর রয়েছে এমন শিশুদের সাথে মিশতে না দেওয়ার ও সতর্ক থাকার পরামর্শ চিকিৎসকদের।
২৫০ শয্যা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আব্দুস সামাদ জানান, বিশেষ টিকা কর্মসূচি শুরু হওয়ায় আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি ভালো হবে।
প্রতিনিধি/এসএস

