রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

গোসল না করায় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম, শিক্ষক আটক

জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী
প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

গোসল না করায় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম, শিক্ষক আটক

গোসল না করায় শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে শিক্ষক।

আটক শিক্ষকের নাম নাজমুল ইসলাম। তিনি নরসিংদী পৌর শহরের ভেলানগর জেলখানা মোড়ের মাদরাসাতুল আবরার এরাবিয়ার শিক্ষক।


বিজ্ঞাপন


শনিবার (৪ এপ্রিল) ওই শিক্ষককে আটক করে পুলিশ।

বেত্রাঘাতে আহত ছাত্র মুজাহিদ হোসেন (৭) জেলার শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকার জুয়েল মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, গোসল না করায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে ওই ছাত্রকে মারধর করা হয়। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে। পরিবারের লোকজন আহত নূরানী বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদকে নরসিংদী ১০০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

 এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষক ননাজমুলকে আটক করে পুলিশ।


বিজ্ঞাপন


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম. আর আল-মামুন।

আহত মুজাহিদ হোসেন বলেন, গোসল করতে অনিহা প্রকাশ করায় মাদরাসার শিক্ষক নাজমুল ইসলাম তাকে বেত দিয়ে মারধর করেন। এক পর্যায়ে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং গভীর ক্ষত তৈরি হয়। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে চামড়া ফেটে রক্ত বের হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

হাতিয়ায় গোসল করতে গিয়ে পুকুরে ডুবে ৭ম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু

ভুক্তভোগী শিশুটি আরও দাবি করেছে, ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

শিশুটির বাবা মাদরাসায় গিয়ে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। পরিবারের সদস্যরা শিশুটির শরীরজুড়ে বেত্রাঘাতের দাগ ও রক্তাক্ত ক্ষত দেখতে পান। বর্তমানে আহত অবস্থায় মুজাহিদ নরসিংদী জেলা ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগীর ফুপু শাকিলা বেগম বলেন, এতদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের নির্যাতনের খবর দেখেছি। এবার আমাদের নিজের পরিবারের শিশুই এমন ঘটনার শিকার হলো। কিছু শিক্ষকের আচরণের কারণে পুরো আলেম সমাজের বদনাম হচ্ছে। একটি শিশুকে এভাবে প্রহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, গোসল না করার মতো সামান্য কারণে একটি শিশুকে এভাবে শাস্তি দেওয়া যৌক্তিক হতে পারে না। এসব ঘটনা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি অভিভাবকদের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।

নরসিংদী ১০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মিজানুর রহমান বলেন, শিশুটি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের ক্ষত নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে।

এ বিষয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ফোন ঢুকেনি।

নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম. আর. আল-মামুন বলেন, পরিবারের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হবে। শনিবার দুপুরে মাদরাসা থেকে ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর