হঠাৎ করেই কয়েকদিন ধরে বেড়েছে রোদের তাপমাত্রা। এই তীব্র গরমে রংপুরের পীরগঞ্জে দেখা দিয়েছে নানা রোগ। বিশেষ করে শিশুদের জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া দেখা দিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যা পীরগঞ্জের এই হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে। হাসপাতালে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এদিকে শয্যা সংকটে অনেক রোগীকেই মেঝেতে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। কোথাও একটি বেডে একাধিক রোগী, আবার কেউ কেউ বারান্দাতেই নিচ্ছেন চিকিৎসাসেবা।
বিজ্ঞাপন
তবে মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডসহ প্রতিটি বিভাগেই বাড়ছে রোগীর চাপ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি শিশুদের নিয়ে। বর্তমানে ডায়রিয়া, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত অন্তত ৩০ শিশু ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে বড় আলমপুর ইউনিয়নের আকুবের পাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ৪ মাসের শিশু কন্যা নুমাইবা বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় মৃত্যু হয়। জ্বর, সর্দি কাশির কারণে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে সাতটায় শিশুটিকে ভর্তি করা হয়ছিল।

তিন বছর বয়সের ছেলে আরফানের মা রাফিয়া বেগম জানান, বাচ্চার নিউমোনিয়া সমস্যায় বুধবার ১২টায় ছেলেকে ভর্তি করি। চিকিৎসা চলছে, ডাক্তাররা ৪/৫ দিন থাকতে বলেছে। মাগুড়া গ্রামের ১৪ মাস বয়সের রাইয়ানের মা শাবনুর জানান, অনেক দিন ধরে ছেলেটার জ্বর কাশি সর্দি। সুস্থ হচ্ছিল না বিধায় বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর ছেলেকে ভর্তি করাই।
অন্যদিকে হাসপাতালটিতে শয্যা সংকটে অনেক রোগীকেই মেঝেতে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। কোথাও একটি বেডে একাধিক রোগী, আবার কেউ কেউ বারান্দাতেই নিচ্ছেন চিকিৎসাসেবা। হাসপাতালটিতে দ্রুত বেড, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তারিকুল ইসলাম রিমন জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ক্রিটিক্যাল সময় পার করছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। হঠাৎ বৃষ্টি, হঠাৎ ঠান্ডা, হঠাৎ গরমের কারণে শিশুরা জ্বর ডায়রিয়া শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বয়স্করাও আবহাওয়া পরিবর্তন রোগের শিকার হয়েছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। চাপের মধ্যেই দিতে হচ্ছে জরুরি সেবা।
পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. মাসুদ রানা জানান, রোগীর চাপ বেশি হলেও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তীব্রভাবে গরমের কারণে ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা ও শ্বাসতন্ত্রের রোগী বাড়ছে। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে সারা বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও পীরগঞ্জে কোনো হাম রোগীর শনাক্ত নেই।
প্রতিনিধি/এসএস

