সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ১০ জেলের মধ্যে ৬ জন মুক্তিপণ দিয়ে জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪ জেলে, যা নিয়ে উপকূলীয় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে আনারুল, ইমরান ও সুশান্ত শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছান। এর একদিন আগে সাদ্দাম, ইউনুস আলী ও সাইফুল ইসলামও ফিরে আসেন।
বিজ্ঞাপন
জেলেদের দাবি, গত ৩০ মার্চ সুন্দরবনের চুনকুড়ি, মালঞ্চ ও মামুন্দো নদী এলাকায় মাছ ও কাঁকড়া ধরার সময় ‘ডন’ ও ‘আলিফ ওরফে আলিম’ বাহিনীর পরিচয়ে সশস্ত্র বনদস্যুরা তাদের অপহরণ করে।
ভুক্তভোগী ও স্বজনদের তথ্যমতে, মুক্তির জন্য বনদস্যুরা মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করেছে। সাদ্দামকে ছাড়াতে ৪০ হাজার টাকা, আনারুল, সুশান্ত ও ইমরানের জন্য মাথাপিছু ৩৫ হাজার টাকা এবং ইউনুস আলী ও সাইফুল ইসলামের জন্য মাথাপিছু ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
ফিরে আসা জেলে সাদ্দাম হোসেন বলেন, টাকা দেওয়ার পর আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম।
বিজ্ঞাপন
জেলেরা আরও জানান, তারা সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন থেকে বৈধ পাস নিয়ে বনে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু তাতেও বনদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পাননি।
এদিকে এনামুল ও হযরতসহ চার জেলের এখনও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক বলেন, অপহরণ বা জেলেদের ফিরে আসার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শ্যামনগর থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, এ ধরনের ঘটনায় অনেক সময় জেলেরা নিজেরাই বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। অপহৃতদের জীবনের ঝুঁকির কারণে তারা পুলিশকে জানাতে চান না। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
উপকূলীয় জেলেরা বলছেন, সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে গিয়ে প্রায়ই বনদস্যুদের কবলে পড়তে হচ্ছে। এতে জীবিকার তাগিদে বনে যাওয়া জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস

