পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার ৭ নং সেখমাটিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের রামভাদ্র গ্রামের এক কোণে আজও লুকিয়ে আছে এক অশ্রুসিক্ত আর্তনাদ যা দেখার কেউ নেই, শোনার ও কেউ নেই। সেই আর্তনাদের নাম আব্দুর রহমান ফকিরের ৫ সদস্যের পরিবার। তিনি মৃত আব্দুর গনি ফকিরের ছেলে। জীবনের নির্মম বাস্তবতা যেন তাকে প্রতিনিয়ত আঘাত করে চলেছে।
মানুষের ন্যূনতম চাহিদা যেখানে একটি নিরাপদ আশ্রয়, সেখানে তার ঘর বলতে আছে শুধু কয়েকটি বাসের খুঁটি আর ছেঁড়া খড়ের ছাউনি। একটু বাতাস এলেই কেঁপে ওঠে, আর বৃষ্টি নামলেই সেই ঘর পরিণত হয় পানিতে। এ যেন পানির স্রোতে ভেসে যাওয়া শেওলার মতো এক অসহায় আশ্রয়স্থল। ঘরের ভেতরেই ঝরে পড়ে বৃষ্টির পানি, ভিজে যায় বিছানা, খাবার, আর তার তিনটি নিষ্পাপ সন্তানের স্বপ্ন। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে রহমান ফকিরের পরিবার। পেশায় একজন মেথর। দিনভর কঠোর পরিশ্রম করে যা উপার্জন করেন, তা দিয়ে ঠিকমতো সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন

তার উপর শারীরিক অসুস্থতা তাকে আরও করে তুলেছে দুর্বল ও অসহায়। ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারেন না তিনি, তবুও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিদিন। বর্ষা এলেই তাদের জীবনে নেমে আসে সীমাহীন কষ্ট। বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে, ছোট ছোট শিশুরা ভিজে মাটিতে কাঁদতে কাঁদতে রাত কাটায়। একজন বাবার কাছে এর চেয়ে বড় অসহায়ত্ব আর কী হতে পারে।
এই অসহায় বাবা একটাই আকুতি একটি নিরাপদ ঘর। একটি এমন আশ্রয়, যেখানে তার সন্তানরা অন্তত বৃষ্টির রাতে ভিজবে না, যেখানে তার স্ত্রী একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন, আর যেখানে তিনি নিজের অসুস্থ শরীর নিয়ে একটু শান্তি খুঁজে পাবেন। আব্দুর রহমান ফকির আশাবাদী হয়ত একদিন তার ভাগ্যেও জুটবে একটি ঘর, যেখানে তিনি মাথা উঁচু করে বলতে পারবেন এটাই আমার ঠিকানা। তাই আব্দুর রহমান ফকির সরকারের কাছে বিনীত আবেদন জানিয়েছেন, যেকোনো সরকারি সহায়তার মাধ্যমে যেন তাকে একটি বসবাসযোগ্য ঘর প্রদান করা হয়।
বিজ্ঞাপন

অসুস্থ আব্দুর রহমানের স্ত্রী সুন্দরী বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, অসুস্থ স্বামী সন্তানদের নিয়ে ঘরহীন আমার বসবাস। আমাদের ঘর তোলার সামর্থ্য নেই। একটি ঘর হলে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারতাম।
৭-নং মেখমাঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ডা. মো. মোক্তাদির রাব্বী জানান, দরিদ্র পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে যেটা কষ্টদায়ক। বিষয়টি নিয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা।
প্রতিনিধি/এসএস

