শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

দশমিনায় বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে ওসির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

জেলা প্রতিনিধি, পটুয়াখালী 
প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

দশমিনায় বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে ওসির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালীর দশমিনায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জমিতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১১টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মো. জহিরুল ইসলাম সবুজ জানান, তার বাবা আলী আকবর খান এবং একই বাড়ির জাকির খানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধপূর্ণ ৩৩ শতাংশ জমির মধ্যে ২০ শতাংশ অংশ আলী আকবর খানের নামে রেকর্ডভুক্ত এবং পূর্ববর্তী সালিশের রায়েও তা উল্লেখ রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


অভিযোগ অনুযায়ী, জাকির খান জমিটি বিক্রির উদ্দেশ্যে এক ক্রেতার কাছ থেকে বায়না গ্রহণ করেন এবং সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। এতে আলী আকবর খান বাধা দিলে বিষয়টি সালিশ পর্যন্ত গড়ায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট আলী আকবর খান পটুয়াখালী দেওয়ানী আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং আদালত থেকে জাকির খানের নামে নোটিশ পাঠানো হয়।

জহিরুল ইসলাম সবুজ দাবি করেন, মামলা চলাকালীন জাকির খান প্রভাব খাটিয়ে ওই জমিতে বালু ফেলে দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে আলী আকবর খানকে থানায় ডেকে নিয়ে তাকে ও তার ভাইকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা হয়। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে উল্টো চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

সবুজ আরও বলেন, ‘আমার বাবা জেলে থাকাকালীন প্রতিপক্ষ দিন-রাত কাজ করে বিরোধপূর্ণ জমিতে অবৈধভাবে প্রাচীর নির্মাণ করে।’ পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আলী আকবর খান পুনরায় আইনের আশ্রয় নেন এবং উক্ত সম্পত্তির ওপর পটুয়াখালী জেলা জজ আদালত স্থিতাবস্থা (স্টে অর্ডার) জারি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আলী আকবর খান বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জাকির খান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি একাধিকবার থানায় গেলেও আমাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়, আর সেই সুযোগে তারা জমিতে কাজ করে। সম্প্রতি আদালতের স্টে অর্ডার থানায় জমা দেওয়ার পর পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করলেও পরে তারা গোপনে আবার কাজ শুরু করে।’


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘বিষয়টি ওসিকে জানালে তিনি নতুন করে মামলা করার পরামর্শ দেন। এর আগেও তিনি আমাকে গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছেন।’ এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত জাকির খান সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি আমার নিজস্ব জমিতে কাজ করছি। আকবর খান আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। আমি আদালত বা থানার পক্ষ থেকে কাজ বন্ধের কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাইনি।’

এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, ‘ওই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। আকবর আলী খান জায়গার স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য একটি স্টে অর্ডার এনেছেন। আমরা একাধিকবার পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করেছি। তবে মাঝে মাঝে গোপনে কাজ করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কেউ আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘থানা পুলিশের সহায়তায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হচ্ছে এমন অভিযোগ সঠিক নয়।’

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর