নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌরশহরে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল স্ট্যান্ডে চাঁদার দাবিতে হামলা চালায় একদল ব্যক্তি। এতে কয়েকজন চালক আহত হন। এক পর্যায়ে মোটরসাইকেল চালকরা মিলে শফিক মিয়া (৫০) নামে এক চাঁদাবাজকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যায়।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে পৌরশহরের শিয়ালজানি খালের সেতুর ওপর মোটরসাইকেল স্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক তোফাজ্জল মিয়া বাদী হয়ে বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। এতে শফিক মিয়া (৫০) ও তার ছেলে আনিছ মিয়াসহ (২২) অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৪ এপ্রিল) মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটক শফিক মিয়া উপজেলার নাগডরা (ছয়ানি) গ্রামের মৃত আব্দুল বারেকের ছেলে। তবে বর্তমানে তিনি বারহাট্টা উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামে বসবাস করেন।
অভিযোগ ও মোটরসাইকেল চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌরশহরের হাট মোহনগঞ্জ এলাকায় শিয়ালজানি খালের সেতুর ওপর একটি মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড রয়েছে। সেখানে শতাধিক মোটরসাইকেল রয়েছে। মোহনগঞ্জ শহর থেকে গাগলাজুর বাজার পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে ভাড়ায় চলাচল করে এসব মোটরসাইকেল চালকরা। গত বৃহস্পতিবার রাতে শফিক মিয়াসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল স্ট্যান্ডে গিয়ে চাঁদা দাবি করে। প্রতি মোটরসাইকেল চালককে পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হুমকি দেওয়া হয়। চাঁদা না দিলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। এ সময় চালকরা প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। পরদিন শুক্রবার বিকেলে আবারও একই স্থানে এসে শফিক ও তার ছেলে আনিছসহ অন্যান্যরা গিয়ে চাঁদা দাবি করলে তোফাজ্জল মিয়াসহ অন্যান্য চালকরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা তাদের মারধর করে। একপর্যায়ে চালকরা মিলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রধান অভিযুক্ত শফিক মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এসময় পরিস্থিতি বেগতিক থেকে অন্য আসামিরা পালিয়ে যায়।
এদিকে, আহত চালক তোফাজ্জল মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে রাতেই তোফাজ্জল মিয়া বাদী থানায় অভিযোগ করেছেন। এতে শফিক মিয়া ও তার ছেলে আনিছ মিয়াসহ অজ্ঞাত ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী তোফাজ্জল মিয়া বলেন, এই স্ট্যান্ডে শতাধিক মোটরসাইকেল চালক রয়েছে। আমরা মোহনগঞ্জ-গাগলাজুর সড়কে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। পরিবারের ভরণপোষণ ও সন্তানদের লেখাপড়া সবকিছুই এই ভাড়ায় বাইক চালিয়ে জোগাড় করি। জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, অভিযুক্ত শফিকুল মিয়া থানায় আটক রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পালিয়ে যাওয়া অন্য অভিযুক্তদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা হবে।
প্রতিনিধি/টিবি

