শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

বিএসএফের নির্যাতনে মৃত্যু: ১১ মাস পর লাশ হয়ে ফিরলেন আজিজুর

জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও 
প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫০ এএম

শেয়ার করুন:

বিএসএফের নির্যাতনে মৃত্যু: ১১ মাস পর লাশ হয়ে ফিরলেন আজিজুর

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার দিনমজুর আজিজুর রহমানের জীবনের করুণ পরিণতি নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো এলাকা। সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক হওয়ার প্রায় ১১ মাস পর অবশেষে লাশ হয়ে দেশে ফিরলেন তিনি।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। তবে সকাল থেকে অপেক্ষা করেও মরদেহ না পেয়ে বিকাল ৪টার দিকে বিজিবি সদস্য ও স্বজনরা তা গ্রহণ করতে পারেন। দীর্ঘ এই প্রতীক্ষা স্বজনদের বেদনা আরও গভীর করে তোলে।


বিজ্ঞাপন


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সারোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার খানের স্বাক্ষরিত ২ এপ্রিলের এক আদেশে জানানো হয়, গত ২২ মার্চ ভারতে মৃত্যুবরণকারী আজিজুর রহমানের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনতে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহটি প্রত্যাবাসন করা হয়।

এদিকে আজিজুরের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার শাহানাবাদে গ্রামে পৌঁছালে শোকের মাতমে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ হয়ে ওঠে হৃদয়বিদারক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ মে দুপুরে রাণীশংকৈল উপজেলার শাহানাবাদ গ্রামের দিনমজুর আজিজুর রহমানসহ চারজন সীমান্ত এলাকায় ঘাস কাটতে যান। তারা সীমান্ত পিলার ৩৭৩/১-এসের কাছে পৌঁছালে ভারতের ১৮৪ আমবাড়ী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। এ সময় তিনজন পালিয়ে এলেও আজিজুর রহমান ধরা পড়েন।

আজিজুরের স্ত্রী তাছকারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে গিয়ে বিএসএফ সদস্যরা পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছে। নির্যাতনের কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।”


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ১১ মাস ভারতে বন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২২ মার্চ ভারতের ইসলামপুরের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ভারতে অবস্থানরত আত্মীয়দের মাধ্যমে পরিবারটি এই মর্মান্তিক সংবাদ জানতে পারে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজীর আহমেদ জানান, “মরদেহ দেশে আনার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

অন্যদিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ঢাকা মেইলকে জানান, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শাহানাবাদ কবরস্থানে আজিজুর রহমানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিনিধি/এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর