চৈত্র পেরিয়ে বৈশাখ আসার আগেই দাবদাহে পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা। জেলাজুড়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষরা।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে এই জেলায় তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলার আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জেলায় মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সকাল থেকেই প্রখর রোদের তাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অতি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে-খাওয়া দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক ও মাঠের কৃষিশ্রমিকরা। তীব্র দাবদাহ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে অনেকেই ছাতা ব্যবহার করে বাইরে বের হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ক্লান্ত হয়ে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন। গরমের কারণে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঠান্ডা পানীয় ও আখের রসের বিক্রি বহুগুণ বেড়েছে।
চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারে ভ্যানচালক আবুল হাসেম বলেন, যে রোদ আর গরম পড়েছে, রাস্তায় তাকালে মনে হয় আগুন জ্বলছে। রোদের তেজে মানুষজনও তেমন বের হচ্ছে না, তাই ভাড়াও অনেক কমে গেছে।
নতুন বাজারে দিনমজুর জহিরুল বলেন, রোদে পুড়ে কাজ করতে গেলে শরীর দিয়ে ঘাম ঝরে পানি হয়ে যাচ্ছে। গরমে কাজ করার শক্তি পাচ্ছি না। কিন্তু বসে থাকলে তো আর পেটে ভাত জুটবে না, পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।
পথচারী সোহাগ মিয়া বলেন, খুব জরুরি কাজ ছিল বলেই এত রোদের মধ্যে বের হয়েছি। রোদের যে তেজ, মনে হচ্ছে চামড়া পুড়ে যাচ্ছে। একটু পরপরই গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে ছায়ায় না দাঁড়ালে রাস্তায় টেকা মুশকিল।
বিজ্ঞাপন
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, টানা তিন দিন ধরে এ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ বিকেল ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই পরিস্থিতি আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কয়েকদিন পর আকাশে মেঘ ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ তাপপ্রবাহ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/এজে

