স্মৃতিতে অম্লান এক সাংবাদিকের নাম আব্দুল মজিদ দুদু। ১৯৭ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পাবনা জেলার সাংবাদিকতায় নতুন প্রজন্মের যে ক'জন সাংবাদিক মহান এই পেশাকে সমুন্নত রেখেছেন, তাদের মধ্যে আব্দুল মজিদ দুদু অন্যতম। আজ আব্দুল মজিদ দুদুর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী।
২০১৫ সালের ৪ এপ্রিল পাবনা প্রেসক্লাবের তৎকালীন কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য, দৈনিক নয়াদিগন্ত ও বার্তা সংস্থা ইউএনবির পাবনা জেলা প্রতিনিধি আব্দুল মজিদ দুদু (৫৪) ইন্তেকাল করেন।
বিজ্ঞাপন
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আজকের দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।
সততা, আর্দশ, একাগ্রতা, নিষ্ঠা, শ্রম, বলিষ্ঠতা, মেধা ও শৃঙ্খলা একজন মানুষকে যে কত ওপরে নিয়ে যেতে পারেন তার উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত বার্তা সংস্থা পিপ এর সম্পাদক ও বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি পাবনা জেলা শাখার তৎকালীন সভাপতি আব্দুল মজিদ দুদু।

তিনি সাংবাদিকদের স্বাধীকারের জন্য আন্দোলন করেছেন। ছিলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ।
বিজ্ঞাপন
তার স্মরণে পাবনা প্রেসক্লাব ৪ এপ্রিল দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
আব্দুল মজিদ মানুষের কল্যাণে সাংবাদিকতা করে গেছেন। তিনি একাধারে অনুসন্ধানী, প্রথিতযশা, সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিক ছিলেন। তিনি পেশাদারিত্বের সঙ্গে মানুষের কল্যাণে সাংবাদিকতা করে গেছেন।
স্মৃতিচারণে সতীর্থরা বলেন, আব্দুল মজিদ দুদুর লেখনির মাধ্যমে জেলায় অনেক কিছু পরিবর্তন ও উন্নয়ন হয়েছে। তিনি বহু সাংবাদিক তৈরি করে গেছেন। তার অবদান ভোলার নয়। তার ভালো আচরণের জন্যই মানুষের মনিকোঠায় চিরদিন বেঁচে থাকবেন। তার মতো কীর্তিমান সাংবাদিকের এখন বড়ই অভাব।
সহযোদ্ধারা আরও বলেন, একাধিক মিডিয়ায় কাজ করলেও অত্যন্ত সহজ সরল জীবনযাপন করতেন। অন্যায়ের সঙ্গে কোনোদিন আপস করেননি। তার মতো সাংবাদিকের খুবই প্রয়োজন। যেন পাবনা জেলার সঠিক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে আনতে পারেন। প্রেসক্লাব নিয়ে গর্ব করলে যেন তাকে নিয়ে করা যায়।
উল্লেখ্য, আব্দুল মজিদ দুদু মৃত্যুকালে স্ত্রী, ২ ছেলে, ২ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সাংবাদিক আব্দুল মজিদ দুদুর বাবা মরহুম ক্বারী সৈয়দ আহাম্মদ আলী। বাড়ি সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শহরের পাথরতলা এলাকার চারতলা মোড়ে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
লেখক: এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সভাপতি, পাবনা প্রেসক্লাব ও স্টাফ রির্পোটার, দৈনিক সমকাল, পাবনা

