বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

চুয়াডাঙ্গায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা, অতিষ্ঠ জনজীবন

জেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

চুয়াডাঙ্গায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা, অতিষ্ঠ জনজীবন
চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় চৈত্রের খরতাপে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন চরমভাবে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। গতকালের তুলনায় প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

গত কয়েকদিন হালকা বৃষ্টি হলেও স্বস্তি মেলেনি। সাধারণ মানুষ আবারও বৃষ্টির আশায় প্রহর গুনছেন।


বিজ্ঞাপন


জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ। এর আগে বেলা ১২টায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

2

সরেজমিনে শহর ঘুরে দেখা গেছে, তপ্ত রোদে জনজীবন প্রায় স্থবির। সকাল সাতটার পর থেকেই তাপমাত্রা ও রোদের তেজ বাড়তে থাকে। তীব্র গরমে সড়কে যান চলাচল কমে গেছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। যারা বের হচ্ছেন, তারা ছাতা ব্যবহার করছেন।

হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর এবং রিকশা-ভ্যানচালকরা। তীব্র গরমে তাঁরা পর্যাপ্ত যাত্রী পাচ্ছেন না। খোলা মাঠে কাজ করা কৃষিশ্রমিকদের দুর্ভোগ আরও বেশি। প্রখর রোদে কাজ করতে গিয়ে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। অনেকে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন।


বিজ্ঞাপন


3

গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের বিভিন্ন মোড়ে আখের রস ও ঠান্ডা শরবতের চাহিদা বেড়েছে। তৃষ্ণা মেটাতে এসব পানীয়ের দিকে ঝুঁকছেন মানুষ।

দিনমজুর শরীফ উদ্দিন বলেন, রোদের তাপে মাঠে বেশিক্ষণ কাজ করা যাচ্ছে না। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে না, তাই বাধ্য হয়েই প্রখর রোদে কাজ করতে হচ্ছে।

ভ্যানচালক সজল আলী বলেন, তীব্র গরমে গাড়ি চালানো কষ্টকর হয়ে গেছে। রোদে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলাও কঠিন।

শহরের বাসিন্দা ও মোটরসাইকেলচালক হাসান বলেন, গরমে শরীর ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। ছাতা ছাড়া বের হওয়া কঠিন।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, গত দুই দিন ধরে জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। একদিনে তাপমাত্রা ২ ডিগ্রির বেশি বেড়েছে, তাই গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন থাকতে পারে। পরে আকাশে মেঘ ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এআর

 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর