সৌদি আরবের রিয়াদে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত ঢাকার দোহার উপজেলার আজগর বেপারীর (৩৮) মরদেহ দেশে আনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ এক বছর ‘আকামা’ বা বৈধ কাগজপত্র বিহীন থাকায় এবং পরিবারের চরম আর্থিক অনটনের কারণে মরদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি থমকে আছে।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে আনার জন্য রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাধানগর এলাকার আহম্মদ বেপারীর ছেলে আজগর বেপারী সাড়ে তিন বছর আগে ‘ফ্রি ভিসায়’ সৌদি আরবে যান। সেখানে তিনি ওয়েল্ডিং হেল্পার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিয়োগকর্তার অবহেলা ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় গত এক বছর ধরে তিনি ‘আকামা’ নবায়ন করতে পারেননি। গত ২৪ মার্চ রিয়াদের হারা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনে কাজ করার সময় পা পিছলে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান আজগর। স্থানীয় প্রবাসীরা তাকে উদ্ধার করে রিয়াদের ‘আজিজ আব্দুল্লাহ হাসপাতালে’ ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বড় ভাইয়ের স্ত্রী রোকসানা জানান, ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আজগর গত সাড়ে তিন বছরে একবারও দেশে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে আজগরের মরদেহ দেশে আনতে আনুমানিক ৪ লক্ষ টাকা প্রয়োজন, যা ভূমিহীন এই পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব। আজগরের মা মমতাজ বেগম এবং স্ত্রী শিরিনা বেগম বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা। তারা জানান, শেষবারের মতো আজগরের মুখ দেখার আকুতি জানালেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও অর্থের অভাবে আইনি প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না।
রিয়াদে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, যেহেতু আজগর অবৈধ অবস্থায় মারা গেছেন, সেহেতু দূতাবাস বিশেষ ট্রাভেল পারমিট বা আইনি ছাড়ের ব্যবস্থা না করলে মরদেহ দেশে পাঠানো সম্ভব হবে না। রিয়াদ প্রবাসীদের পক্ষ থেকে জুনায়েদ নামে একজন জানান, তারা যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছেন কিন্তু সরকারি সহায়তা ছাড়া এই মরদেহ দেশে পাঠানো প্রায় অসম্ভব।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। মৃত ব্যক্তির পরিবার বা স্বজনরা যদি যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেন, তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সরকারি খরচে বা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সহায়তায় মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/একেবি

