বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে উঁকি দেওয়ার অভিযোগে বৃদ্ধ খুন!

জেলা প্রতিনিধি, মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৭ এএম

শেয়ার করুন:

প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে উঁকি দেওয়ার অভিযোগে বৃদ্ধ খুন!
পুলিশের হাতে আটক মহাদেব।

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কলমা গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে উঁকি দেওয়ার অভিযোগে এক বৃদ্ধকে থাপড় মেরে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে, আরেক অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন।

নিহত বৃদ্ধের নাম নিয়াশা চন্দ্র দাস। তিনি উপজেলার কলমা ইউনিয়নের দাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও মনীন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে।


বিজ্ঞাপন


নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী অসিম দাসের স্ত্রীর ঘরে উঁকি দেওয়ার অভিযোগে তার দেবর মহাদেব দাস সোমবার রাতে নিয়াশা চন্দ্র দাসকে ডেকে নিয়ে পেটান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাকে দাসপাড়া হরি সভা মন্দিরের সামনে নিয়ে যান। কখন মহাদেবের সহযোগী মাহবুব থাপ্পড় দিলে নিয়াশা চন্দ্র সড়কে লুটিয়ে পড়েন। এতে নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে নিয়াশা চন্দ্রের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত মহাদেবকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে অভিযুক্ত মাহবুব ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।

নিহতের বড় মেয়ে উর্মিলা মন্ডল বলেন, ‘আমার বাবাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এতিম হয়ে গেলাম। আমার বাবা মাছ ধরে সংসার চালাতেন। এখন আমাদের কী হবে? যারা আমার বাবাকে হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’


বিজ্ঞাপন


স্থানীয় বাসিন্দা ধীরেন দাস বলেন, ‘নিয়াশাকে ধরে আনার পর মাহবুব থাপ্পড় দিলে তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে সকালে তার মৃত্যু হয়।’

প্রবাসী অসিম দাসের স্ত্রী পূজা দাস বলেন, ‘আমার দেবর মহাদেব অনেকদিন ধরে আমাকে বিরক্ত করত। আমার সম্মানহানি করতে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার জন্যই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। যাকে মারা হয়েছে তিনি একজন বয়স্ক মানুষ, আমার বাবার বয়সী। তিনি আমাদের বাড়ির আশপাশেও আসেননি।’

লৌহজং থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় মহাদেব নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রতিনিধি/এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর