নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মাফিজুল ইসলাম (১৮) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী যুবক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাফিজুল শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের মানিকদী পশ্চিমপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় একই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সিফাত মিয়া (২৫) এবং গাফুর আলীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৭০) গুরুতর আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, মাফিজুল ইসলাম ও তার প্রতিবেশী সিফাত মিয়া মোটরসাইকেলযোগে পার্শ্ববর্তী পলাশ উপজেলার চরসিন্দুরে একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের গেটের সামনে পৌঁছালে পরিষদ থেকে বের হওয়া বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগে। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি পরিষদের সীমানা প্রাচীরের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনায় আরোহী মাফিজুল ও সিফাত এবং পথচারী মনোয়ারা বেগম গুরুতর আহত হন এবং মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায়। জানা গেছে, মনোয়ারা বেগম বয়স্ক ভাতার টাকা নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তবে ঢাকা নেওয়ার পথেই মাফিজুল ইসলামের মৃত্যু হয়। বর্তমানে আহত সিফাত মিয়া ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল এবং মনোয়ারা বেগম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত মাফিজুলের বাবা আবুল হোসেন জানান, তার ছেলে কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। প্রতিদিনের মতো সকালে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তিনি ছেলের মৃত্যুর খবর পান।
দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক শামীম মোল্লা জানান, পরিষদের ভেতর থাকাকালীন হট্টগোলের শব্দ শুনে তিনি বাইরে এসে দেখেন তিনজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কোহিনূর মিয়া জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রতিনিধি/একেবি

