মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

হাম আতঙ্কে শরীয়তপুর: ২৫ নমুনার ১৫ পজিটিভ, ৩ শিশুর মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫২ এএম

শেয়ার করুন:

হাম আতঙ্কে শরীয়তপুর: ২৫ নমুনার ১৫ পজিটিভ, ৩ শিশুর মৃত্যু
হাম আতঙ্কে শরীয়তপুর

শরীয়তপুরে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত দুই সপ্তাহে জেলায় হামের লক্ষণ নিয়ে সংগ্রহ করা ২৫টি নমুনার মধ্যে ১৫টিতেই পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন শিশুর মৃত্যু হওয়ায় জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু হলেও নতুন করে তরুণদের মধ্যেও সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে জ্বর ও সারা শরীরে র‍্যাশ নিয়ে দুই তরুণ ভর্তি হয়েছেন। তারা হলেন বাঘিয়া এলাকার ইমন মুন্সী (১৯) ও দাদপুর গ্রামের শাহীন কাজী (১৮)। সংক্রমণ ছড়ানো রোধে তাদের হাসপাতালের তৃতীয় তলায় আলাদা কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিতু আক্তার জানান, রোগীদের লক্ষণ দেখে হামে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিনিধি দল তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে গেছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, জাজিরা উপজেলার বিকেনগর মাদবরকান্দি গ্রামের মনির হোসেনের ৮ মাস বয়সী মেয়ে মালিহা হামের লক্ষণ নিয়ে অসুস্থ হলে প্রথমে তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তার শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত করে নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গতকাল সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে একই হাসপাতালে ২৩ মার্চ দেড় বছর বয়সী তাসিফা এবং ২২ মার্চ ৯ মাস বয়সী রুকাইয়ার মৃত্যু হয়। তিনটি শিশুই শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা ছিল এবং সবার মধ্যেই হামের লক্ষণ ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন জেলার সিভিল সার্জন মো. রেহান উদ্দিন।

তিনি বলেন, হামের সংক্রমণ রোধে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি। লক্ষণ দেখা দিলেই নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ না করলে শিশুদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইসোলেশনে রাখা এবং চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি গুরুত্ব না দেওয়ায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যুর ঘটনায় শরীয়তপুরজুড়ে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার না করলে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিনিধি/টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর