চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বুধুন্ডা গ্রামের তেগুরিয়া বিল যেখানে ৭৫ একর জমিতে প্রায় ২০০ কৃষকের স্বপ্ন জড়িয়ে আছে সোনালি ফসলের সঙ্গে। কিন্তু হঠাৎ এক চুরির ঘটনায় সেই স্বপ্নে নেমে এসেছে অন্ধকার।
মিলন হোসেনের মালিকানাধীন একটি পানি সেচ পাম্প থেকে গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ, ক্যাপাসিটার, স্টাটার ও মেইন সুইচ চুরি হয়ে যায়। এতে করে পুরো সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে কৃষকদের বোরো ধান উৎপাদনে।
বিজ্ঞাপন
পাম্পটির দেখাশোনা করেন শ্রমিক মকবুল হোসেন। তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার (২৮ মার্চ) রাত ১১টা পর্যন্ত তিনি পাম্পে অবস্থান করেন। এরপর বাড়িতে চলে গেলে রোববার (২৯ মার্চ) সকালে এসে দেখেন পাম্পের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশগুলো চুরি হয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন বলেন, আমি কয়েক বছর ধরে এই পাম্পের মাধ্যমে কৃষকদের সেচ সুবিধা দিয়ে আসছি। হঠাৎ এই চুরির ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং পুরো সেচ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে স্থানীয়দের মতে, বুধুন্ডা-তেগুরিয়া সংযোগ সড়কটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়। রাত ৮টার পরও অনেকের যাতায়াত থাকে। তাই পরিকল্পিতভাবেই এই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে মো. কবির হোসেন, জাহাঙ্গীর হাজি, আলম বকাল ও মনতাজ তালুকদার জানান, এই মাঠের সেচ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের ফসল মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। দ্রুত পাম্প চালু না হলে জমির ব্যাপক ক্ষতি হবে।
তিনি আরো বলেন, চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সেচ ব্যবস্থা দ্রুত চালুর জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এই বিষয়ে স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য হারুনুর রশিদ বলেন, বিষয়টি আমি সকাল ৮টার দিকে আলমগীরকে ফোন দিলে সে জানায়। তবে তিনি চুরির বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি। তবে ওই এলাকা প্রধান সড়কের ভেতরে হওয়ার কারণে রাতে গ্রাম পুলিশ ছিল না। এলাকা নিরিবিলি থাকায় হয়ত চুরির ঘটনা ঘটছে।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন বলেন, চুরির ঘটনায় স্থানীয় কৃষকরা থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।
এই বিষয়ে বিতাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. রাকিবুল ইসলামের বক্তব্যের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্রতিনিধি/এসএস

