নাটোরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকরা।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে নাটোর শহরের স্টেশন বাজার ও হাফরাস্তা এলাকার পাম্পগুলো সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শত শত মোটরসাইকেল তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত হয়ে অনেক চালক মোটরসাইকেল রেখে রাস্তার পাশে বসে পড়েছেন। লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে চালকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে। সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করায় বিপাকে পড়েছেন চালকরা।
বিজ্ঞাপন
সকাল ৯টায় তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ানো শাকিল হোসেন জানান, এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তিনি এক পা-ও এগোতে পারেননি। অনেকে পেছন থেকে এসে সামনে ঢুকে তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে। কোনো শৃঙ্খলা নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। আশিকুর রহমান নামে আরেক চালক জানান, তার সামনে আরও অন্তত ২০০ মোটরসাইকেল রয়েছে, তাই দুপুর হওয়ার আগে তেল পাবেন কি না তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
নলডাঙ্গা থেকে আসা সাইদুর রহমান জানান, তেলের জন্য তিনি ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে এসেছেন। ৫০০ টাকার তেল পাবেন শুনে নাটোরে আসলেও পাম্প থেকে মাত্র ২০০-৩০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে আসার পথেই যে তেল খরচ হয়েছে, তা পুষিয়ে উঠবে কি না তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। আশরাফুল ইসলাম নামে এক চালক জানান, ট্যাংক ভর্তি করে তেল না দেওয়ায় এই ভোগান্তি বাড়ছে। মাত্র ২০০ টাকার তেল একদিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে, ফলে চালকদের প্রতিদিন পাম্পে আসতে হচ্ছে এবং দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, পাম্পে পর্যাপ্ত তেল থাকলেও মোটরসাইকেলের যে পরিমাণ চাপ, তাতে একদিনেই মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। সবাইকে তেল দেওয়ার সুবিধার্থেই নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা রোধে জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/একেবি

