সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেল সংগ্রহে জেলা প্রশাসকের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত ফুয়েল কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, এমন ঘোষণার পর তা বাতিল করা হয়েছে বলে যে খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেটিকে ‘ভুয়া’ বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে ফুয়েল কার্ড চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন।
জেলা প্রশাসন, সাতক্ষীরা সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের চলমান সংকট, অতিরিক্ত মজুদ, কালোবাজারি ও চোরাচালান রোধে বুধবার রাতে মোটরসাইকেলের জন্য কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জ্বালানি তেল সংগ্রহ, বৈধ কাগজপত্র বহন এবং হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। পাশাপাশি ফুয়েল কার্ড ব্যবহারের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
তবে ওই ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন মাধ্যমে ‘ফুয়েল কার্ডের সিদ্ধান্ত বাতিল’ সংক্রান্ত খবর ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার এর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একই ব্যক্তি একাধিক ফিলিং স্টেশন থেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে কালোবাজারি ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে প্রকৃত গ্রাহকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই ফুয়েল কার্ড চালুর বিষয়টি আলোচনায় আসে। এর মাধ্যমে প্রতিটি মোটরসাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং একই ব্যক্তি যেন একাধিক পাম্প থেকে তেল নিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায়, ফুয়েল কার্ড চালুর বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন থাকায় এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হচ্ছে। যথাযথ সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হবে।
এদিকে পূর্বে জারি করা অন্যান্য নির্দেশনা বহাল রয়েছে। এর মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তেল সংগ্রহ, মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র বহন, হেলমেট ব্যবহার এবং ফিলিং স্টেশন ও অনুমোদিত ডিলার পয়েন্ট ছাড়া খোলা বাজারে জ্বালানি তেল কেনাবেচা বন্ধ রাখার নির্দেশনা কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের সংকটের এই সময়ে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা এবং কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এতে করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে।
প্রতিনিধি/এসএস

