বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

চোর সন্দেহে ছেলেকে না পেয়ে বাবাকে মারধর, অপমানে মায়ের আত্মহত্যা

জেলা প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

চোর সন্দেহে ছেলেকে না পেয়ে বাবাকে মারধর, অপমানে মায়ের আত্মহত্যা

জামালপুর সদর উপজেলায় গরু চোর সন্দেহে এক যুবককে ধরতে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার বাবা-মাকে তুলে নিয়ে সালিশে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই অপমান ও নির্যাতন সইতে না পেরে জোসনা বানু (৪৫) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের খলিলহাটা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত জোসনা বানু ওই এলাকার সুরুজ আলীর স্ত্রী।


বিজ্ঞাপন


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে খলিলহাটা এলাকার পুলিশ সদস্য নায়েব আলীর বাড়িতে গরু চুরির চেষ্টা চালায় একদল চোর। এই ঘটনার পর রাত ৩টার দিকে প্রতিবেশী সুরুজ্জামানের বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে সুজন মিয়াকে চোর সন্দেহে ধরতে যান ইউপি সদস্য নায়েব আলী ও তার অনুসারীরা। সুজনকে না পেয়ে তারা তার বাবা সুরুজ আলী ও মা জোসনা বানুকে জোরপূর্বক নায়েব আলীর বাড়িতে তুলে নিয়ে যান। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি নিয়ে সালিশি বৈঠক বসে। সেখানে চোর সন্দেহে তোতা মিয়া ও সোহেল রানা নামে আরও দুই ব্যক্তিকে ডেকে এনে মারধর করা হয়। একই সাথে তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপরও নির্যাতন চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সালিশে চরম লাঞ্ছনার শিকার হয়ে জোসনা বানু বাড়ি ফিরে ক্ষোভে ও অপমানে আত্মহত্যা করেন।

নিহত গৃহবধূর স্বামী সুরুজ আলী অভিযোগ করেন, ‘নায়েব আলীদের সঙ্গে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। সেই শত্রুতার জের ধরে আমাদের চোর সাজিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারধর করে ইউনিয়ন পরিষদেও নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাড়ি ফিরে জানতে পারি আমার স্ত্রী মারা গেছেন।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য নায়েব আলী বলেন, ‘প্রতিবেশীর অভিযোগের ভিত্তিতে গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অভিযুক্ত সুজন উপস্থিত না হয়ে তার পরিবারের সদস্যরা খারাপ আচরণ করলে উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে সামান্য মারধর করে। আমি তাদের থামানোর চেষ্টা করেছি।’

জামালপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুজ্জামান জানান, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বিজ্ঞাপন


প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর