বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

জয়পুরহাটে স্ট্রবেরি চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

জেলা প্রতিনিধি, জয়পুরহাট
প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

জয়পুরহাটে স্ট্রবেরি চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

জয়পুরহাটে বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরি চাষ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। অন্য ফসলের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় স্ট্রবেরি চাষ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় দেশজুড়ে এর রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।

joypurhat_2


বিজ্ঞাপন


এখানকার উৎপাদিত স্ট্রবেরি জেলার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, তারা কৃষি বিভাগের কোনো সহযোগিতা পান না। এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, তারা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।

জানা গেছে, জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর, খেজুরতলা, চান্দা, কালীবাড়িসহ কয়েকটি গ্রামে নিজ মেধা ও উদ্যোগে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন কৃষকরা। এ গ্রামগুলো রীতিমতো পরিচিতি পেয়েছে ‘স্ট্রবেরি ভিলেজ’ হিসেবে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম সময়ে উৎপাদন ও লাভ বেশি হওয়ায় গত বছরের চেয়ে এবার বেড়েছে এর চাষ। ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে স্ট্রবেরি তোলা। এতে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা।

joypurhat_3

প্রতিকেজি স্ট্রবেরি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। কৃষকরা জানায়, এক বিঘাতে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। আর স্ট্রবেরি বিক্রি হচ্ছে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। এতে এ বিঘাতেই ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে। চাহিদা থাকায় জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাকে করে সরবরাহ হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা চান কৃষকরা।


বিজ্ঞাপন


joypurhat_4

চান্দা গ্রামের কৃষক এনামুল হক বলেন, এবার স্ট্রবেরির ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি একবিঘা জমিতে খরচ বাদ দিয়ে আড়াই লাখ টাকা লাভ হবে। এই ফসলটা এতই লাভজনক কিন্তু সরকার আমাদের কোনো গুরুত্ব দেয় না। কোনো কৃষি অফিসার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে না। কী ঔষধ দেবো, সেটাই বুঝি না। দোকানদার যা দেয়, তাই নিয়ে এসে জমিতে দেই।

joypurhat_5

জামালপুর গ্রামের লিও হোসেন বলেন, এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর ভালো ফলন হলে স্ট্রবেরি বিক্রি হয় ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। আমি এবার দুই বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেছি, আশা করছি ৫ লাখ টাকা লাভ হবে। পাশাপাশি চারা বিক্রি করে আমাদের অতিরিক্ত আয় হয়।

joypurhat_6

শাহাপুর গ্রামের কৃষক লিটন হোসেন বলেন, অন্য ফসলের চেয়ে স্ট্রবেরিতে অনেক লাভ। ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। এক বিঘা জমিতে ৫ হাজার গাছ থাকে। ফলনের মৌসুমে প্রতিদিন দেড় মণ করে স্ট্রবেরি তোলা হয় এক বিঘা জমি থেকে। এতে আমাদের লাভ ভালো হচ্ছে। কিন্তু সরকার আমাদের প্রতি কোনো নজর দেয় না। কোনো সহযোগিতা পাই না। বছর গেলেই কীটনাশকের দাম বাড়ে, এতে আমাদের খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে।

joypurhat_7

ব্যবসায়ী স্বপন হোসেন বলেন, পাবনা থেকে এখানে স্ট্রবেরি কিনতে এসেছি। স্ট্রবেরির জন্য এ এলাকা বিখ্যাত শুনে কিনতে এসেছি। এখান থেকে ট্রাকে করে নিয়ে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ স্ট্রবেরি বিক্রি করব।

চুয়াডাঙ্গার ব্যবসায়ী শিমুল হোসেন বলেন, এখানে ভালো স্ট্রবেরি পাওয়া যায় এজন্য পাইকারিভাবে কিনতে এসেছি। এখানে প্রচুর স্ট্রবেরি চাষ হলেও দাম একটু বেশি। পাইকারি কিনছি ৪০০ টাকা। এরপর আমরা ৫৫০ টাকায় বিক্রি করব। আমি যশোরে এই স্ট্রবেরি নিয়ে যাব।

joypurhat

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এ.কে.এম সাদিকুল ইসলাম জানান, এবার জেলায় ১৩ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় এ বছর জেলায় স্ট্রবেরি চাষ অনেকটা বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন আমরা আশা করছি। বাজারে চাহিদা থাকায় কৃষকরা ভাল দাম পাচ্ছে। এই চাষে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে। তবে কৃষকদের জন্য আমরা কোনো প্রণোদনা পাইনি।

প্রতিনিধি/এজে

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর