বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

পটুয়াখালীতে সিগারেটের পাওনা টাকা চাওয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি, পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম

শেয়ার করুন:

পটুয়াখালীতে সিগারেটের পাওনা টাকা চাওয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নে চায়ের দোকানে সিগারেটের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে রহিম প্যাদা (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের অভিযোগ, মারধরের ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে গুরুতর অবস্থায় তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. জাকের হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আবাসন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন রহিম প্যাদা। তার দোকান থেকে স্থানীয় কামাল হাওলাদার বাকিতে বিভিন্ন পণ্য নেন। সেই পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রহিম প্যাদাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের।

আরও পড়ুন

গাইবান্ধায় বাবার কবর ভাঙচুর করলেন ছেলে

নিহতের বড় মেয়ে নাজমা অভিযোগ করে বলেন, ‘কামাল হাওলাদার, জামাল হাওলাদার, নুর ইসলাম হাওলাদার, খোকন হাওলাদার এবং শাহাবুদ্দিন তালুকদার মিলে আমার বাবাকে মারধর করেছে। এসময় আমার মা গিয়ে সামনে দাঁড়াইছে, তাকেও ওরা ঘুষি দিছে, হাত মোচড়াইয়া দিছে। আমার বাবারে প্রথম ধাক্কা মারছে, পরে লাঠি দিয়া মারছে। এরপর আবার ধাক্কা দিয়া মাটিতে ফালাইয়া দিছে। সেখানেই আমার বাবার চোখ-মুখ উল্টাইয়া মুখ থেকে ফেনা ও রক্ত বের হইয়া মারা গ্যাছে। আমার বাপেরে জাগায় ওরা শেষ কইরা দিছে।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের নাতনী বলেন, 'আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম। বিকেলেও কামাল হাওলাদার সিগারেট আনতে গ্যাছে দোকানে। তখন আমার নানা টাকা চাওয়ায় তারে বলছে—কীসের টাকা দেব? তোরে মাইরা আলু আলু বানাইয়া ফালামু। তখনও আমার নানারে দোকান থেকে নামাইয়া ধাক্কা দিছে। পাশে ওদের দোকান থেকে রড হাতে দেখাইয়া হুমকি দিছে। এরপর রাতে নানারে মারধর করছে। ধাক্কা দিয়া ফালাইয়া দিছে। আমার নানায় ওখানেই পায়খানা প্রস্রাব করে দিছে। ওখানেই সে মারা গ্যাছে।’

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালে রয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর