দেশের প্রতিটি নাগরিককে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে আগামী বাজেটে বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার।
সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর বাজারে একটি ব্যাংকের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
ড. তিতুমীর বলেন, সকল নাগরিকের ব্যাংক হিসাব নিশ্চিত করা গেলে সরকারি সুবিধাগুলো সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা আর বঞ্চিত হবেন না।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড, ওয়ান ডিজিটাল পোর্টফোলিও’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা কিউআর কোড ব্যবহার করে সহজে আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন, ফলে নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন অনেকাংশে কমে আসবে।
এছাড়া দেশের প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ কৃষকের জন্য চালু করা হবে বিশেষ ‘কৃষক কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা একসঙ্গে ১০ ধরনের সেবা পাবেন। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে।
ড. তিতুমীর বলেন, এটি কোনো দাতব্য সহায়তা নয়; বরং কৃষকদের অধিকার নিশ্চিত করার একটি উদ্যোগ। তাদের মর্যাদা ও স্বীকৃতি দিতে সরকার কাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, আগামী পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) থেকে কৃষক কার্ড কার্যক্রম চালু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ১১টি স্থানে এটি চালু হবে, পরে ধাপে ধাপে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, বীজ ও সার সরবরাহ এবং সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। পাশাপাশি খাল খনন ও পুনঃখনন এবং নদী দখলমুক্ত করার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
ড. তিতুমীর বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কৃষিঋণের সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ করা হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
/এএস

