সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ঢল 

জেলা প্রতিনিধি, রংপুর
প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ঢল 

ঈদ  উল ফিতরের তৃতীয় দিনেও রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে নগরীর চিড়িয়াখানা, শিশু পার্ক, চিকলি ওয়াটার পার্ক, তাজহাট জমিদার বাড়ি ও জাদুঘর, শিরিন পার্ক, প্রয়াস বিনোদন পার্ক, কালেক্টরেট সুরভি উদ্যান, টাউনহল চত্বরসহ নগরীরের বাইরে গঞ্জিপুরে ভিন্নজগৎ, পীরগঞ্জে আনন্দ নগর, কাউনিয়া তিস্তা পার্ক, মহিপুরঘাট ও তিস্তা সেতুসহ নগরী ও আশপাশের জনপ্রিয় স্পটগুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনোদনপ্রেমীদের সরব উপস্থিতি ছিলো চোখে পরার মতো। 

enter_7


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে দেখা যায়, বিনোদনকেন্দ্রগুলোর প্রধান ফটকে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন। পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজন নিয়ে এসেছেন ঘুরতে। তবে শিশুদের নিয়ে আসা মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। ঈদের দিন থেকে আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা আর নির্মল-স্নিগ্ধ পরিবেশ থাকায় আনন্দে মেতেছে শিশু-কিশোররা। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা গেছে রংপুরের দর্শনীয় স্থান, পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। 

রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্র খ্যাত ইসলামপুর ও সাগরপাড়া নীলকন্ঠ এলাকায় অবস্থিত সবচেয়ে বড় বিনোদন পার্ক হিসেবে বর্তমানে আলোচিত নাম সিটি পার্ক ও চিকলি ওয়াটার পার্ক। ওয়াটার পার্কের বিশেষ আকর্ষণ ভাসমান ওয়াটার পার্ক। যেখানে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও ওয়াটার পার্কের শিশুদের খেলার জায়গা, বিশাল নাগরদোলা, দীর্ঘদিনের ট্রেন, কৃত্রিম ঝর্ণধারায় শিশু কিশোরদের অংশগ্রহণ চোখে পরার মতো। 

enter_6

একই অবস্থা দেখা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিড়িয়াখানা রংপুর চিড়িয়াখানা। সেখানে সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার, সিংহের খাঁচার সামনে সবসময় জটলা দেখা যায় শিশুদের। এছাড়াও গন্ডার, জলহস্তী, হরিণ, বানর, চিতাবাঘ, ভালুক, কুমির, অজগর, কচ্ছপও দেখতে দেখা যায়। তবে অর্ধ শতাধিক রাইডের সমাহার নিয়ে শিশু পার্কে শিশুদের উপস্থিতি অনেক বেশি। সেখানকার প্রতিটি রাইডগুলো ব্যবহারে টিকিট কাটতেও ছিল ভিড় আর ভিড়। তবে বেশি আকর্ষণ করেছে শিশুদের রোস্টার। নৌকার আদলে তৈরি রোস্টারে শিশুদের আনন্দ উচ্ছ্বাস যেন বিশ্ব জয়ের আনন্দের মতো। অন্যদিকে ভয় আর রোমাঞ্চের জন্য ভূতের ঘর-সংসার রয়েছে? এই ভূতের গুহায় অনেকের প্রবেশে ভয় কাজ করলেও ভালোই শিহরন জাগায় বলে জানিয়েছে একাধিক শিশু-কিশোর। 


বিজ্ঞাপন


enter_5

নগরীর অন্যতম দর্শনীয় স্থান তাজহাট জমিদার বাড়ি ও জাদুঘর। রংপুরের অন্যতম একটি প্রাচীন নিদর্শনের কারণে ঈদে দর্শনার্থী হিসেবে সব বয়সি মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে স্থানটি। 

নগরীর বাইরে জেলার সবচেয়ে বড় পিকনিক স্পট ও পর্যটনকেন্দ্র ভিন্ন জগৎ, পীরগঞ্জে আনন্দনগর, নীলদরিয়া, ’তাজ ইকোভেঞ্চার। মিঠাপুকুরের শালবন বাগান, ফকিরবাড়ি পল্লি জাদুঘর, গংগাচড়ায় মহিপুরঘাট ও কাউনিয়া তিস্তা পার্ক, তিস্তা সেতুসহ স্পটগুলো বিনোদনপ্রেয়সীদের পদচারণায় মুখরিত ছিলো। ঈদের ঘোরাঘুরি আনন্দময়, বৈচিত্র্যময় ও প্রশান্তির করে তুলেছে এবারের কিছুটা ঠান্ডা আর নির্মল-স্নিগ্ধ আবহাওয়া। 

enter_3

কথা হয় চিকলী ওয়াটার পার্কে ঘুরতে আসা মুহিবুল ইসলামের সাথে। তিনি পরিবার নিয়ে এসেছেন ওয়াটার পার্কে ঘুরতে। ঈদে পরিবারকে নিয়ে ঘুরতে আসার মজাই আলাদা।  মুহিবুলের মতো অনেকেই এসেছে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে। সবাই মিলে ঘুরতে এবং আনন্দ করার মাঝে প্রশান্তি আছে। একই কথা জানান রমজান আলী বাবু। 

হুমায়ুন কবীর মানিক জানান, ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে তিনি এসেছেন চিড়িয়াখানায়। খাঁচা বন্দি হলেও জলহস্তী, বাঘ ও সিংহ এবং হরিণ দেখে অনেক খুশি ছেলেমেয়েরা। তারা পুরো চিড়িয়াখানা ঘুরে ঘুরে দেখেছেন। শিশু পার্কে ছেলে আদনান খুব খুশি জানান হজরত আলী। তিনি ছেলেকে নিয়ে এসেছেন চিড়িয়াখানার শিশু পার্কে। প্রতিটি রাইডেই উঠেছে তার ছেলে।  

enter_2

মিঠাপুকুরে ফকিরবাড়ি পল্লি জাদুঘরের উদ্যোক্তা লেখক আদিল ফকির জানান, এখন পুরোপুরি কাজ শেষ হয়নি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মর্ম সংরক্ষণের প্রতিষ্ঠান ফকিরাবাড়ি পল্লি জাদুঘরের। তারপরও এবারে পরীক্ষামূলক দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ঈদের তিন থেকে ভালোই সাড়া পাওয়া গেছে। মানুষ গ্রামীণ পরিবেশে ঘুরতে বেড়াতে পছন্দ করে। তাই শহর থেকে অনেক দর্শনার্থী এসেছে এই ফকিরবাড়ি পল্লি জাদুঘরে। তিনি আরো বলেন, আগামী ঈদের মধ্যে পুরো কাজ শেষ করার চেষ্টা করবেন বলে জানান। 

enter_1

রংপুর চিড়িয়াখানার ইজারাদার হজরত আলী জানান, প্রতিবছরের মতো এবারেও ঈদ উপলক্ষ্যে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরর পানি পান ও নামাজের ব্যবস্থা এবং বিশ্রামের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে পুরো চিড়িয়াখানা সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। সেই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে সার্বক্ষণিক পুলিশ রয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মজিদ আলী জানান, ঈদে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট, ফুট প্যাট্রোল ও মোবাইল টিম মোতায়েন রয়েছে। এছাড়াও টহল টীম থাকবে প্রতিটি স্পটে। যাতে করে বিনোদন পার্কে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। 

প্রতিনিধি/ এজে

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর