সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

গাইবান্ধায় পাম্পে সংকট, বাইরে তেল মিলছে দ্বিগুণ দামে

তোফায়েল হোসেন জাকির,গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

গাইবান্ধায় পাম্পে সংকট, বাইরে তেল মিলছে দ্বিগুণ দামে

গাইবান্ধা জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তীব্র জ্বালানি সংকট বিরাজ করছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই সমস্যায় প্রতিদিন তেলের সন্ধানে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ছুটছেন ক্রেতারা। কোথাও সীমিত পরিমাণ সরবরাহ এলেও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তা পাচ্ছেন না অনেকে। ফলে অনেকেই ব্যর্থ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের অভাব থাকলেও স্থানীয় হাট-বাজারে প্রকাশ্যেই অতিরিক্ত দামে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে। আর লিটারে দ্বিগুণ দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষক ও মোটরসাইকেল চালকরা।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার অধিকাংশ পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। কোথাও অল্প পরিমাণ সরবরাহ এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক যানবাহন তেল নিতে পারছে না। এ নিয়ে কোথাও কোথাও উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।

জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পেট্রোলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। প্রতি লিটার পেট্রোল ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দামে বিক্রি করছেন বাইরের খুচরা বোতল দোকানিরা। অথচ সরকার নির্ধারিত দামে পেট্রোল প্রতি লিটার ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা হওয়ার কথা।

জানা গেছে, সম্প্রতি গাইবান্ধা শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ আছে অনেক পাম্পে মজুত থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের তেল না দিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে। একই অবস্থার সৃষ্টি করেছে সাদুল্লাপুরের শাহানা ফিলিং স্টেশনেও। এখানে কিছু মজুদ তেল সংকট দেখিয়ে গোপন বিক্রি করছেন খুচরা বাজারের দোকানিদের কাছে।

আরও পড়ুন

ফুলছড়িতে তেলের অভাবে অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ, পথেই ঝরল রোগীর প্রাণ

মোটরসাইকেল চালক জাকিরুল ইসলাম বলেন, পাম্পে তেল সংকট থাকলেও আশপাশেই বোতলে করে বেশি দামে সেই তেল বিক্রি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে পাম্পে সরবরাহ সীমিত রেখে বাইরে বেশি দামে তেল বিক্রি করছে।

আরেক ভুক্তভোগী ছাকা মিয়া বলেন, সরকার নির্ধারিত দাম কাগজে থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। পাম্পে তেল না থাকায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অথচ খোলা বাজারে সেই তেলই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, সেচ মৌসুমে ডিজেলের অভাবে জমিতে পানি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আবার বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে। এতে করে উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ফিলিং স্টেশন মালিক জানিয়েছেন, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। চাহিদা বেশি হওয়ায় যে পরিমাণ তেল আসে, তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাইলাতুল হোসেন বলেন, যেখানে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে। অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর