সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

কাওয়ালি-পুঁথিপাঠে মাতোয়ারা কপোতাক্ষ পাড়

জেলা প্রতিনিধি, খুলনা
প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম

শেয়ার করুন:

কাওয়ালি-পুঁথিপাঠে মাতোয়ারা কপোতাক্ষ পাড়

খুলনার কয়রা উপজেলা সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের পাড়ে দিনব্যাপী ক্রীড়া ও ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে নদ সংলগ্ন স্কুল মাঠে ভিড় জমাতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কাওয়ালি আর পুথি পাঠের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা, সৃষ্টি হয় এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ।

দিনের প্রথমার্ধে ব্যতিক্রমধর্মী স্লো মোটরসাইকেল রেস, বিস্কুট দৌড়, কাঁকড়া দৌড়, তথ্য খুঁজে লেখা, পাঞ্জা লড়াই, কাচি টানাটানি। বিভিন্ন বয়সী মানুষ এসব খেলায় অংশগ্রহণ করে।


বিজ্ঞাপন


দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত, রম্য বিতর্ক, ইসলামী সংগীত। সন্ধ্যায় মূল আয়োজন পুঁথি পাঠ ও কাওয়ালি গান। শহর থেকে আনা হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। আমন্ত্রিত মেহমানদের ভেতর এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

a75e7d55-bcf6-467b-866e-267482528b25

অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিল্পীদের পরিবেশনায় পরিবেশিত হয় প্রাণবন্ত কাওয়ালি। তবলা, হারমোনিয়াম আর করতালের তালে তালে পরিবেশিত এসব কাওয়ালি সংগীত দর্শকদের মুগ্ধ করে। একের পর এক জনপ্রিয় কাওয়ালি গানে দর্শক-শ্রোতারা তালি আর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। অনেকেই গানের তালে তালে অংশ নেন, যা অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

আরও পড়ুন

ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে দিতে নড়াইলে ষাঁড়ের লড়াই

এরপর শুরু হয় পুঁথিপাঠ। সুরেলা কণ্ঠে পাঠক ধীরলয়ে উচ্চারণ করতে থাকেন পুঁথির পংক্তিমালা। প্রতিটি শব্দ যেন গল্পের আবহকে জীবন্ত করে তোলে। শ্রোতারা নিঃশব্দে মনোযোগ দিয়ে শোনেন— কখনো আবেগে আপ্লুত হন, আবার কখনো মুগ্ধ হয়ে যান বর্ণনার ছন্দে ও সুরে। উপস্থিত দর্শকরা হাসি-আনন্দ আর করতালিতে পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে রাখেন।

ঈদে গ্রামে এসেছেন সরকারি কর্মকর্তা তানভীর। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসে দারুণ এক আয়োজনের অংশ হলাম। এমন আয়োজন দীর্ঘদিন পর দেখতে পেয়ে তারা ভীষণ আনন্দিত। ঈদের আনন্দের সঙ্গে এ ধরনের আয়োজন ছুটিতে বাড়ি আসাকে পূর্ণতা দিয়েছে।

fc72c5e9-07dc-4146-8a63-5668facd2985

আয়োজক কমিটির সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান জানান, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে। অপসংস্কৃতি থেকে তরুণ যুবকদের দেশীয় সংস্কৃতির সাথে অভ্যস্ত করতে এমন আয়োজন। কবিগানের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মাধ্যমে আমরা আমাদের শিকড়কে নতুন করে পরিচিত করাতে চাই।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর