রোববার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

টিলা-পাহাড় পেরিয়ে চাঁদের গাড়িতে প্রকৃতির খোঁজ

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

টিলা-পাহাড় পেরিয়ে চাঁদের গাড়িতে প্রকৃতির খোঁজ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটিতে প্রকৃতির টানে মৌলভীবাজারে ছুটে যাচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। সবুজ চায়ের বাগান, পাহাড়ি টিলা আর আঁকাবাঁকা পথে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতাকে আরও রঙিন করে তুলছে চার চাকার জিপ গাড়ি ‘চাঁদের গাড়ি’। লাল-হলুদ রঙের এসব গাড়ি এখন চায়ের রাজধানীতে পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ।

mulovi_3


বিজ্ঞাপন


জেলার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় গেলেই চোখে পড়ে সারি সারি রঙিন জিপ। স্থানীয়দের ভাষায় এগুলো ‘চাঁদের গাড়ি’। পাহাড়ি ও টিলাময় পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য উপযোগী এসব শক্তপোক্ত গাড়ি এখন পর্যটকদের ঘোরার প্রধান বাহনে পরিণত হয়েছে।

ঈদের ছুটিতে পর্যটকের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাঁদের গাড়ির চাহিদাও বেড়েছে কয়েক গুণ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের নিয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, মনিপুরী পাড়া, বাইক্কা বিল, বিভিন্ন চা-বাগানসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থানে ছুটে চলছে এসব গাড়ি।

mulovi_1

রোববার (২২ মার্চ) সকালে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সম্মুখে কথা হয় কয়েকজন পর্যটকের সাথে। তাদের একজন নরসিংদী থেকে আসা পর্যটক রিয়াদ হোসেন। তিনি বলেন, এই প্রথম শ্রীমঙ্গল আসলাম। চাঁদের গাড়িতে বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি। ওরা খুব উপভোগ করছে।


বিজ্ঞাপন


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে প্ল্যান করে এসেছি। চাঁদের গাড়িতে করে বনের ভেতর যাওয়ার সময়টা একটু অ্যাডভেঞ্চারের মতো লাগছে।

mulovi_4

ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, কাজের চাপের মধ্যে সময় পাই না। ঈদের ছুটিতে এসে এইভাবে ঘুরতে পারাটা মানসিকভাবে অনেক রিফ্রেশ করে দিলো।

সিলেটেরই এক কলেজ শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, আগে অনেকবার আসছি, কিন্তু এবার চাঁদের গাড়িতে ঘুরে জায়গাগুলো নতুন করে দেখলাম।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় এসব জিপ মূলত মালামাল পরিবহন বা দুর্গম পথে চলাচলের কাজে ব্যবহৃত হলেও এখন তা পর্যটন সেবায় নতুন রূপ পেয়েছে। নির্দিষ্ট ভাড়ায় ঘণ্টাভিত্তিক বা গন্তব্যভিত্তিক এসব গাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়।

স্থানীয় পরিবহন (চান্দের গাড়ি) চালক সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে আগত পর্যটকদের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ভ্রমণের জন্য প্রায় ৩০০ টি ‘চাঁদের গাড়ি’ রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য রিজার্ভ ট্রিপ চালু রয়েছে। খোলা ছাদের বাহারি রঙের জীপকেই স্থানীয়রা ‘চান্দের গাড়ি’ বা ‘চাঁদের গাড়ি’ বলে থাকেন। ৮-১০ জনের বসার ব্যবস্থা থাকে এসব গাড়িতে। শ্রীমঙ্গল শহরের স্টেশন রোডস্থ পেট্রোল পাম্পের সামনে সাময়িক একটি স্ট্যান্ড রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজ ভাড়া ধরা হয়েছে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা।

চান্দের গাড়ি চালকরা জানান, রমজান মাসজুড়ে পর্যটন নগরী পর্যটকশূন্য থাকায় থাকায় চালকদের অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তবে তাদের প্রত্যাশা ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগমনে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে স্থানীয় পর্যটন ও অর্থনীতি। 

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ইকো ট্যুর গাইড সাজু মারছিয়াং বলেন, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরে দেখার অন্যতম আকর্ষণ এই খোলা জিপ আকৃতির গাড়ি, যা স্থানীয়ভাবে ‘চাঁদের বা চান্দের গাড়ি’ নামে পরিচিত। খোলা ছাদের এই গাড়িতে দাঁড়িয়ে পাহাড় ও প্রকৃতির মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন ভ্রমণপ্রেমীরা। 

চান্দের গাড়ি চালক নজরুল মিয়া জানান, পর্যটকদের উন্নত সেবা দিতে চাঁদের গাড়িগুলোর ব্রেকিং সিস্টেম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়াতে নতুন করে রং করা হয়েছে গাড়িগুলো। 

চান্দের গাড়ির চালক ইব্রাইম খলিল বলেন, ঈদে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের কাছে শ্রীমঙ্গলের চাঁদের গাড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড বা টার্মিনাল না থাকায় পর্যটকদের সেবা দিতে কিছুটা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

চাঁদের গাড়ি মালিক সাগর আহমেদ বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা চেষ্টা করছি পর্যটকদের নিরাপদ ও ভালো সেবা দিতে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে পরিবহনের ক্ষেত্রে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘চাঁদের গাড়ি’ নামে পরিচিত জিপ গাড়িগুলো। এসব গাড়ির মানোন্নয়ন ও সেবার মান বাড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ খাতের উন্নয়নে কাজ অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর