রোববার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

চট্টগ্রামের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে মানুষের ভিড়

জেলা প্রতিনিধি, ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

চট্টগ্রামের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে মানুষের ভিড়

স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে ঈদের প্রথম দিন কাটানোর পর দ্বিতীয় দিন রোববার সকাল থেকেই চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, পারকি, সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত, মিরসরাই মহামায়া লেক দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। 

chitta_2


বিজ্ঞাপন


এছাড়া সবুজ পাহাড়ের মাঝে প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের আঁকাবাঁকা হ্রদ নিয়ে গড়ে ওঠা ফয়'স লেকেও দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ছে। এখানকার ওয়াটার পার্ক 'সি-ওয়ার্ল্ড'-এর কৃত্রিম ঢেউয়ে সামুদ্রিক আমেজ নিতেই ছুটে আসছেন অধিকাংশ দর্শনার্থী। 

যেখানে বিভিন্ন রাইডে তরুণ-তরুণীদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। বেইস ক্যাম্পেও দেখা গেছে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের ভিড়। লম্বা ছুটি পাওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে চট্টগ্রামে এসেছেন। তাদের অনেকেই থাকছেন ফয়'স লেক রিসোর্টে।

chitta_3

সি-ওয়ার্ল্ডে ঘুরতে আসা পর্যটক শায়রা ইসলাম বলেন, 'ঈদের ছুটি উপভোগ করতে আমরা কয়েকজন কাজিন একসঙ্গে ফয়ে'স লেকে বেড়াতে এসেছি। উন্মুক্ত পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা সংকট থাকে। এখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রয়েছে।' 


বিজ্ঞাপন


পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে আরেক বিনোদনকেন্দ্র ফয়স লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ডে। এখানে বেড়াতে আসা মানুষদের কেউ সি ওয়ার্ল্ডে আনন্দে মেতেছেন। এখানে প্রায় সাড়ে চার হাজার পর্যটক ঘুরতে এসেছেন। তাদের অনেকেই বেসক্যাম্পে উঠেছেন। আর ফয়স লেকে বোটে করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

chitta_4

ফয়স লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপক (বিপণন) বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, এবারের ঈদে দর্শনার্থীদের জন্য ফয়'স লেক কনকর্ডে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। এবার ছুটি লম্বা হওয়ায় দর্শনার্থীদের পদচারণা একটু ধীরে বাড়ছে।'

কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ডের পাশেই চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। একসময় চিড়িয়াখানায় তেমন কোনো বৈচিত্র্য ছিল না। এখন সে পরিস্থিতি নেই। নানা ধরনের প্রাণী নিয়ে আসা হয়েছে। আছে বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি। চিড়িয়াখানার বড় আকর্ষণ এখন সাদা বাঘ। এছাড়া সিংহ, বানর, হনুমান ও বিভিন্ন প্রজাতির হরিণসহ পশুপাখি দেখতে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে এসেছেন বয়স্করাও। পাশাপাশি পাহাড়ের মাঝখানে থাকা খেলনাগুলোতে চড়ে আনন্দ উপভোগ করছে শিশুরা।

chitta_5

চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট থেকে দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসেন চাকরিজীবী মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী। তিনি বলেন, বাঘ দেখার জন্য শিশুদের অনেক আগ্রহ। তাই ঈদের ছুটিতে পরিবারের সবাই এখানে বেড়াতে এসেছেন। তাঁদের ভালোই লাগছে।

চিড়িয়াখানার তত্ত্ববধায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, স্বাভাবিক সময়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে মানুষের ভিড় লেগে থাকে চিড়িয়াখানায়। ঈদের দ্বিতীয় দিনে সে ভিড় আরও বেড়েছে। বিশেষ করে এখানে শিশু-কিশোরদের নিয়ে এসেছেন বড়রা।

ঈদের দিন দর্শনার্থীদের সংখ্যা খুব একটা না থাকলেও রোববার দ্বিতীয় দিন শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বয়স্করাও পরিবার-পরিজন নিয়ে দল বেঁধে বিনোদন কেন্দ্রে এসেছে। এতে পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে বিনোদনকেন্দ্রগুলো। 

এদিকে রোববার দুপুর থেকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতেও মানুষের ভিড় দেখা গেছে। এদের কেউ সমুদ্রের পানিতে গা ভাসিয়েছেন। কেউবা সমুদ্রের পাড়ে বসে গান গেয়ে আনন্দ মেতেছেন। তারেক সগির নামে সরকারি এক চাকরিজীবী পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে এসেছেন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। 

তিনি বলেন, সাগর পাড়ে এলে মন ভালো হয়ে যায়। বিশুদ্ধ বাতাস মনে প্রশান্তি আনে। চট্টগ্রামে এখন প্রচণ্ড গরম অনুভূত হচ্ছে। এ অবস্থায় সৈকতের বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে যাচ্ছে।  

পতেঙ্গা সৈকতের পূর্বপাশে আনোয়ারা পারকি সৈকতেও মানুষের প্রচণ্ড ভিড় জমেছে। সেখানেও সকাল থেকে তরুণ-তরুণী, শিশু ও বয়স্করা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সৈকত এলাকায় দায়িত্বরত টুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তার এ তথ্য জানিয়েছেন। 

সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতজুড়ে কেউ যেন বিছিয়ে রেখেছে সবুজ ঘাসের গালিচা। ম্যানগ্রোভ বনে মাঝেমধ্যে দেখা মেলে হরিণের উঁকি, কখনো ছুটে চলে লাল কাঁকড়া। ঈদে বেড়াতে সেখানেও যাচ্ছে মানুষ। এই সৈকতে আছে দর্শনার্থীদের জন্য ওয়াশ ব্লক, রয়েছে দোকানপাটও। বেড়িবাঁধের পাশে রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। সৈকতের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের সহস্রধারা ও সুপ্তধারা নামে দুটি ঝরনা। পর্যটকেরা সেখানেও ভিড় জমাচ্ছেন।

উপচে পড়া ভিড় জমেছে ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার চা বাগানগুলোতেও। সেখানেও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রামের শহর ও প্রত্যন্ত এলাকার ভ্রমণ পিপাসু মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। চা বাগান কর্তৃপক্ষ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

পর্যটকের ঢল নেমেছে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মহামায়া ইকোপার্ক। রোববার সকাল থেকে ভিড় জমেছে সেখানেও। ছুটি পেয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবারের সদস্য ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এখানে ছুটে আসেন অনেকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠাকুরদীঘি থেকে মহামায়ায় যাওয়ার সড়কে গাড়ির জন্য হাঁটা দায়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ছিল চোখে পড়ে মতো। এছাড়া বাস, মাইক্রো, প্রাইভেটকার, লোকাল সিএনজি চালিত অটোরিকশা যোগে লেকের পাড়ে যেতে দেখা গেছে। পার্ক ঘিরে গড়ে উঠা হোটেলসহ বিভিন্ন দোকানে মানুষ ভিড় ছিল। পার্কের মূল গেটের বাইরে গাড়ি পার্কিংয়ে প্রায় শতাধিক গাড়ি দেখা গেছে।

দূর থেকে দেখা যায় প্রায় পাহাড়সম বাঁধ। উভয় পাশে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। বাঁধের ধারে অপেক্ষমাণ সারি সারি ডিঙি নৌকা আর ইঞ্জিনচালিত বোট। বোটে ঘরে ১১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের লেক ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভ্রমণ পিপাসা লোকজন। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে লেকের স্বচ্ছ পানিতে তাকাতেই দেখা যায় নীলাকাশ। 

পূর্ব-দিগন্তের সারি পাহাড়ের বুক চিরে যেতে যেতে লেকে মজা করে কায়াকিং করছে অনেকে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরছেন অনেকে। কিছু দূরেই দেখা গেছে পাহাড়ের কান্না। অঝোরে কাঁদছে। অথচ তার কান্না দেখে নিজের কাঁদতে ইচ্ছে হয়নি। উপরন্তু কান্নার জলে গা ভাসাচ্ছেন অনেকে।

ইছাখালী ইউনিয়নের সাহেবদী নগর এলাকা থেকে বেড়াতে আসা মাঈনুল আবছার বলেন, ঢাকায় ব্যবসা করি। পরিবার নিয়ে সেখানে থাকতে হয়। ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে এসেছি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মহামায়ায় বেড়াতে এলাম, দেখে খুব ভালো লাগছে। বাচ্চারাও অনেক মজা করেছে।

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থেকে আসা ৫ বন্ধুর একজন জাবেদ কাউসার বলেন, প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে বন্ধুরা সবাই মিলে বিভিন্ন পর্যটন ¯পটে বেড়াতে যাই। এবার মহামায়ায় আসলাম। রাস্তায় তেমন গাড়ি না থাকায় শহর থেকে মাত্র এক ঘণ্টায় এখানে চলে এসেছি। সবাই মিলে অনেক আনন্দ করছি। 

মহামায়া ইকোপার্ক ইজারা পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এআর এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তা মো. জাহেদ হোসেন বলেন, স্বাভাবিক সময়ে এখানে প্রতিদিন ৩০০-৪০০ পর্যটক পার্কে আসেন। ঈদের দ্বিতীয় দিনে এ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহ আরও বেশি টিকিট বিক্রি হবে।

টুরিস্ট পুলিশের চট্টগ্রাম রিজিয়নের এসপি উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, সৈকতসহ বিনোদনকেন্দ্র গুলোতে ঈদের দিন দুপুর থেকে মানুষের উপচে পড়া ভিড় জমেছে। বিনোদন কেন্দ্রে আগত লোকজনের বেশির ভাগই চট্টগ্রাম মহানগর ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার। দর্শনার্থীরা যাতে কোনও সমস্যায় না পড়েন সেজন্য টুরিস্ট পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।  

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর