জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ভাসমান সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটিতে অতিরিক্ত চাপের কারণে ঘটেছে এই দুর্ঘটনা। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণ।
শনিবার (২১ মার্চ) ঈদুল ফিতরের দিন বিকেল ৪টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
নিহত শিশুরা হলো দেওয়ানগঞ্জ ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের জয়নাল মিয়ার ১০ বছর বয়সী সন্তান মায়ামনি, ঝালুরচর এলাকার শের আলীর ৬ বছর বয়সী ছেলে আব্দুল মোতালেব, তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে খাদিজা, বেলতলি এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে আবির হোসেন ও নিহাদ নামের এক শিশু।
স্থানীয়রা জানান, ঈদ বা যেকোনো উৎসবে ভাসমান সেতুর ওপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হয়ে কালিকাপুর বাঁধে ঘুরতে যায় সাধারণ মানুষ। বিকেলে বাঁধে যাবার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভাসমান সেতুর ওপর ভিড় করে স্থানীয়রা। অতিরিক্ত চাপের কারণে ভেঙে যায় ভাসমান সেতুটি। এতে ব্রহ্মপুত্র নদে পড়ে যায় অনেকে। একে একে সবাই সাঁতারে তীরে উঠলেও নিখোঁজ থাকে কয়েকজন শিশু। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ফায়ার সার্ভিস। এতে সহায়তা করে সেনাবাহিনী, বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন
জামালপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শেখ রবিউল ইসলাম আকন্দ জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই তারা টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তারা উদ্ধান অভিযান শুরু করেন। ঘটনাস্থল থেকে মোট পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর কোনো নিখোঁজের আবেদন না থাকায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেছে ফায়ার সার্ভিস।
আরও পড়ুন
ঈদ আনন্দে বিষাদের ছায়া
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ওই এলাকা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, এই ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। এই ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি যেখানে এই ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রতিনিধি/জেবি

