শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

নিখোঁজের দুই দিন পর ভেসে উঠল কনস্টেবল ফখরুলের মরদেহ

জেলা প্রতিনিধি, ভোলা
প্রকাশিত: ২১ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৫ এএম

শেয়ার করুন:

নিখোঁজের দুই দিন পর ভেসে উঠল কনস্টেবল ফখরুলের মরদেহ

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্য অধিদফতরের অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া পুলিশ কনস্টেবল ফখরুল ইসলামের মরদেহ দুই দিন পর দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা সংলগ্ন এলাকায় নদীতে ভেসে উঠেছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে তা উদ্ধার করা হয়।


বিজ্ঞাপন


image

এর আগে, গত বুধবার সন্ধ্যায় লালমোহন ইলিশ শিকারের ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলার মঙ্গল শিকদার এলাকায় মেঘনা নদীতে মৎস্য অধিদফতরের অভিযানে দায়িত্ব পালনকালে একটি স্পিডবোটে থাকা অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হন কনস্টেবল ফখরুল ইসলাম। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তীব্র স্রোতের কারনে  লঞ্চের সাথে স্পিডবোটটি সংঘর্ষে সেটি উল্টে যায়। এ সময় ফখরুল নদীতে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হন।

ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধারে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। টানা দুই দিন অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান মেলেনি। এ সময় প্রিয়জনের অপেক্ষায় মেঘনার তীরে অবস্থান নেয় তার পরিবার। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।

নিখোঁজ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছিলেন, “আমরা এখনো আশা ছাড়িনি। আল্লাহ যেন তাকে জীবিত ফিরিয়ে দেন— এই দোয়াই করেছি।” কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে। এমনটাই জানিয়েছেন শোকাহত পরিবারের সদস্যরা।


বিজ্ঞাপন


উদ্ধারের পর দৌলতখান থানা পুলিশ জানায়, মরদেহ শনাক্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং প্রাথমিকভাবে এটি নিখোঁজ পুলিশ সদস্য ফখরুল ইসলামের মরদেহ বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উদ্ধার কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মেঘনা নদীর প্রবল স্রোত ও গভীরতার কারণে অভিযান পরিচালনায় বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবুও সম্ভাব্য সব স্থানে তল্লাশি চালানো হয়, যার ফলশ্রুতিতে অবশেষে মরদেহটি উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওসার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন, দৌলতখান উপজেলা প্রশাসন। এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। আমরা শুরু থেকেই উদ্ধার অভিযান জোরদার রেখেছিলাম।”

এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে নৌপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা।


প্রতিনিধি/এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর