শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীতে হঠাৎ ওঠা ঝড়ের তাণ্ডবে সিমেন্টবোঝাই তিনটি ট্রলার ডুবে গেছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বাঁশতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
তবে ট্রলারে থাকা চালক ও শ্রমিকরা সাঁতরে তীরে উঠতে পারায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকা থেকে বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট বোঝাই করে তিনটি ট্রলার ঝালকাঠি, ইন্দুরকানি ও গৌরনদীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। প্রতিটি ট্রলারে হাজার হাজার ব্যাগ সিমেন্ট ছিল—সব মিলিয়ে প্রায় ছয় হাজার ব্যাগ সিমেন্ট বহন করছিল ট্রলারগুলো।
দুপুরের দিকে ট্রলারগুলো নড়িয়ার পদ্মা নদীতে পৌঁছালে হঠাৎ করে আবহাওয়ার অবনতি ঘটে। মুহূর্তেই শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া, সঙ্গে ওঠে উত্তাল ঢেউ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চালকরা দ্রুত ট্রলারগুলো তীরে ভেড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একে একে তিনটি ট্রলারই নদীগর্ভে তলিয়ে যায়।
হঠাৎ এই বিপর্যয়ে ট্রলারে থাকা শ্রমিক ও চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে জীবন বাঁচাতে সবাই নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঝড়ের সময় পদ্মা নদী ছিল অত্যন্ত উত্তাল। ঢেউ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে বড় ট্রলারও টিকতে পারেনি। মুহূর্তের মধ্যে ট্রলারগুলো পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল জলিল জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে তিনটি ট্রলারডুবির খবর পাওয়া গেছে। ট্রলারে থাকা সবাই নিরাপদে তীরে উঠতে পেরেছেন, ফলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় নদীপথে পণ্য পরিবহনে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বৈরী আবহাওয়ায় সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তার কথা আবারও সামনে এসেছে।
প্রতিনিধি/ এজে

