নদীবেষ্টিত গাইবান্ধার অন্যতম বিনোদন স্থল ব্রহ্মপুত্র নদের বালাসী ঘাট। চিরচেনা দর্শনীয় এই স্থানে প্রত্যেক ঈদে আগত সব বয়সের হাজারও বিনোদনপ্রেমি যেন প্রকৃতির রূপে মুগ্ধ হয়ে যান। তবে নিরাপত্তার অভাবে ঘটে থাকে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা। আর কাঙ্ক্ষিত সেই সব ঘটনা এড়াতে আসন্ন ঈদেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা। এতে করে দর্শনার্থীদের নিয়ে অনিরাপদের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সরেজমিনে ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বালাসী ঘাট এলাকায় যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল বিনোদনপ্রেমিদের ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার গল্প।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তরের নদীবেষ্টিত জেলা গাইবান্ধা। নদীমাতৃক এই সুন্দর বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানের মধ্য ফলছড়ির এই বালাসী ঘাট। এ জেলায় বিনোদনের জন্য কয়েকটি স্থান থাকলেও সেগুলোতে কৃত্রিম কিছু দেখা ছাড়া প্রকৃতির রূপ সৌন্দর্য তেমনটি চোখে পড়ে না। তাই প্রত্যেক বছরে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে বালাসী ঘাটে ছুটে আসেন বিনোদনপ্রেমিরা। এখানে প্রকৃতির নির্মল বাতাস আর দৃশ্য দেখতে মনের আনন্দে ঘুরাঘুরিতে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন তারা।

নৌমাঝি আনসারুল্লাহ বলেন, ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে নদীতে বেশ কয়েকটি নৌকা নামানো হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য এটি কয়েকদিন চলবে। লোক বহন করে দিনে প্রায় ১ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে রোজগার হবে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়রা জানান, আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে নদীদে নামানো হয়েছে বেশ কিছু নৌকা। বালু চরে দাপিয়ে বেড়াবে ঘোড়া গাড়ি। এসব বাহন যোগে বিভিন্ন বালুচরসহ এদিক-সেদিক ঘুরবে ভ্রমণপিপাসুরা। একই সঙ্গে নদীর দুপাড়ে ও চরাঞ্চলগুলোতে দর্শনার্থীদের পদচারণে মুখরিত হয়ে ওঠবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে বালাসী ঘাটে প্রত্যেক ঈদে আগত উৎসুক বিনোদনপ্রেমিরা মুগ্ধ হন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, এখানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের বসার জন্য নেই কোনো ব্যবস্থা। সেইসঙ্গে পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থাও নেই। এছাড়া এর আগে কিশোর গ্যাংক চক্রে পড়ে অনেক দর্শনার্থী হেনস্তার শিকার হওয়া ঘটনাও ঘটেছে এখানে। তাই এসব ভোগান্তি দূর করতে প্রশাসনের সহযোগিতা জরুরি। নচেৎ এ স্থান থেকে মানুষ ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে নেবে।
এ ব্যাপারে ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বলেন, বালাসীতে আগত মানুষেরা যাতে করে নির্বিঘ্ন আনন্দ উপভোগ করতে পারে সে বিষয়ে তদারকি করা হবে।
প্রতিনিধি/ এজে

