শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

সবার ঘরে ঈদ, বৃদ্ধাশ্রমে শুধু অপেক্ষা আর নিঃসঙ্গতা

সুমন চন্দ্র, দিনাজপুর
প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২৬, ০৩:১২ পিএম

শেয়ার করুন:

সবার ঘরে ঈদ, বৃদ্ধাশ্রমে শুধু অপেক্ষা আর নিঃসঙ্গতা

পবিত্র রমজান শেষে ঈদের চাঁদ উঠলেই আনন্দে ভরে ওঠে চারদিক। নতুন পোশাক, প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা, হাসি-খুশির মিলনমেলা। সব মিলিয়ে ঈদ মানেই আনন্দের উৎসব। কিন্তু এই আনন্দের বাইরেও আছে এক নীরব, অদেখা বাস্তবতা। যেখানে ঈদ মানেই অপেক্ষা, আর সেই অপেক্ষার নাম ‘সন্তান’।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ‘গোধূলী বৃদ্ধাশ্রম’ নামটা যেমন শান্ত, ভেতরের গল্পটা ততটাই বেদনাময়। এখানে বসবাস করছেন ২১ জন মা-বাবা, যাদের জীবনে ঈদ আসে ঠিকই, কিন্তু সঙ্গে করে আনে না কোনো আপনজনের সান্নিধ্য।


বিজ্ঞাপন


একসময় যাদের ঘিরেই ছিল পরিবারের সব আনন্দ, আজ তারা যেন সেই আনন্দের বাইরে। সন্তানদের হাত ধরে প্রথম হাঁটা, স্কুলে পৌঁছে দেওয়া, অসুখে রাত জেগে থাকা সবই এখন শুধু স্মৃতি।

b860eebf-9aff-488a-aaa4-1258e746df1d

ঈদের দিন এলেও এখানে নেই কোনো কোলাহল, নেই সন্তানের ডাক। আছে শুধু চুপচাপ বসে থাকা কিছু মুখ, আর গভীর চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু।

এই বৃদ্ধাশ্রমের একজন বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা। সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করে কৃষিকাজ করেছেন। পাশাপাশি নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়াতেন, সমাজে ছিলেন সম্মানিত একজন মানুষ।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন

ঈদের আনন্দ আক্ষেপে কাটে পরিবারহীন ১৬০ শিশুর

কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার ঠিকানা এখন এই বৃদ্ধাশ্রম। ঈদের দিনেও তিনি অপেক্ষা করেন—হয়ত কোনো একদিন সন্তানরা ফিরে আসবে, ডাকবে 'বাবা' বলে।

আবু বক্কর সিদ্দিক একা নন। এখানে থাকা অন্যদের গল্পও প্রায় একই। হিন্দু-মুসলিম মিলিয়ে ২১ জন মানুষ—যাদের কারও সন্তান আছে, কারও নেই; কিন্তু সবার মাঝেই একটাই অভাব—‘আপনজন’।

অনেকে ১০-১১ বছর ধরে এই আশ্রমেই কাটাচ্ছেন জীবন। সময় পেরিয়ে যায়, ঈদ আসে-যায়, কিন্তু অপেক্ষার শেষ হয় না।

চাপা কষ্ট নিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এখানে আসতে পাঁচ-ছয় বছর হয়ে গেল। এখন পর্যন্ত কেউ দেখতে আসেনি। একটা বেটাও আসেনি। আমার বেটা-বেটি থাকতেও নেই। জন্ম দিয়েছি, মানুষ করেছি—তাও যদি ওরা না দেখে, তাহলে তো আমার কিছু করার নেই।

e352ecaf-ad45-499a-869d-5f1e7dd7cb66

আরেক জন বলেন, হামার পরিবারত ছেলে আছে বউ মা আছে আমাকে দেখতে পারে না এই জন্য এঠে আছু পড়ে।

গোধূলী বৃদ্ধাশ্রমের সেক্রেটারি মো. আইনুল ইসলাম বলেন, গোধূলী বৃদ্ধাশ্রমটি ২০১৪ সালে উদ্বোধন করা হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমি নিষ্ঠার সঙ্গে এখানে দায়িত্ব পালন করে আসছি।

তিনি আরও বলেন, বৃদ্ধাশ্রমটির সার্বিক ব্যয় ও সহযোগিতা প্রধানত চেয়ারম্যান সাহেবই বহন করে থাকেন।

এছাড়াও, সমাজসেবা অফিস থেকে নিয়মিতভাবে চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হয়, যা এখানে বসবাসরত প্রবীণদের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর