শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ঈদে বাড়ি ফিরতে দৌলতদিয়া ঘাটে জনস্রোত, নেই চিরচেনা ভোগান্তি

কাজী তানভীর মাহমুদ, রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২৬, ১১:১৯ এএম

শেয়ার করুন:

ঈদে বাড়ি ফিরতে দৌলতদিয়া ঘাটে জনস্রোত, নেই চিরচেনা ভোগান্তি

আগামীকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর। এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শেষ মুহূর্তে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোর থেকেই ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকা, সাভার ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কর্মজীবী মানুষ কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। আজ ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই ঘাটে যাত্রীদের বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বাসের পাশাপাশি ছোট গাড়ি, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে ঘাট এলাকায়।


বিজ্ঞাপন


তবে যাত্রীদের এই উপচে পড়া ভিড় থাকলেও ঘাটে নেই আগের মতো চিরাচরিত সেই ভোগান্তি। বিআইডব্লিউটিসি ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্তসংখ্যক ফেরি ও লঞ্চের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য।

5d8619fc-ad49-4f7f-bdb8-d844bc4c0243

যাত্রীরা জানিয়েছেন, ভিড় বেশি থাকলেও ফেরি পারাপারে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। পর্যাপ্ত যানবাহন ও ফেরি সচল থাকায় ভোগান্তি ছাড়াই তারা নদী পার হতে পারছেন। দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।

পোশাক শ্রমিক রাজবাড়ীগামী যাত্রী মো. আসলাম হোসেন সাভারের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তিনি বলেন, "কাল ঈদ, তাই আজ সকালেই রওনা দিয়েছি। ভেবেছিলাম ঘাটে অনেক জ্যাম পাব, কিন্তু এসে দেখি ফেরি। ভিড় একটু বেশি হলেও বড় কোনো ঝামেলায় পড়তে হয়নি। আশা করছি দুপুরের মধ্যেই বাড়িতে পৌঁছাতে পারব। পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করার আনন্দই আলাদা।"


বিজ্ঞাপন


 ফরিদপুরগামী যাত্রী গৃহিণী রোকসানা আক্তার গাজীপুর থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর সাথে ফরিদপুর যাচ্ছেন। তিনি জানান, "বাচ্চাদের নিয়ে গরমে একটু কষ্ট হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ঘাটে এসে বেশিক্ষণ বসে থাকতে হয়নি। বাস থেকে সরাসরি ফেরিতে উঠতে পেরেছি। আগে শুনতাম দৌলতদিয়া ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়, এবার সেই ভোগান্তি নেই দেখে ভালো লাগছে।"

কুষ্টিয়াগামী যাত্রী তৌহিদুল ইসলাম ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলে কুষ্টিয়া ফিরছেন। ঘাটের পন্টুনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, "মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকায় আমাদের জন্য সুবিধা হয়েছে। ঘাটে অতিরিক্ত চাপ থাকলেও ব্যবস্থাপনা বেশ ভালো। পুলিশ আর ঘাট কর্তৃপক্ষ সক্রিয় থাকায় যাত্রীরা সিরিয়াল মেনে পার হতে পারছে। নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছি, পথে কষ্ট হলেও সেটা এখন আর মনে হচ্ছে না।"

38e22a5c-2eb9-4a01-8736-b05f27bff24f

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার এজিএম মো. সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লেও ‌নেই ভোগা‌ন্তি। যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে পদ্মা নদী পারাপার করতে পারেন তার জন্য ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭টি ফেরি এবং ২০টি লঞ্চের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ঘাট সূত্রে জানা গেছে, ঈদে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৭টি ফেরি চালু রাখা হয়েছে এবং লঞ্চ চলাচল করছে ২০টি। জরুরি পণ্য, শিশুখাদ্য ও পচনশীল দ্রব্যবাহী যানবাহন ছাড়া অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় ঘাট এলাকায় যানজট তৈরি হয়নি। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে বেশিরভাগ যানবাহন সেতুপথ ব্যবহার করলেও কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, যশোর, মাগুরা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী অঞ্চলের অনেক পরিবহন এখনো এই নৌপথেই চলাচল করছে। এ ছাড়া ঘাট ব্যবহারকারী ও চালকদের মধ্যেও দেখা গেছে স্বস্তি।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ জানান, ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ঘাট এলাকায় পুলিশের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। পোশাকের পাশাপাশি, সাদা পোশাকে ও ডিবি পুলিশ কাজ করছে। মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ ও ঘাটে নৌপুলিশ আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি রোধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।

আরও পড়ুন

মাদারীপুরে পিকআপ-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, দুই শিশুসহ আহত ১০

জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ঈদের আগে থেকেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। যাত্রীদের থেকে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা যেন অতিরিক্ত ভাড়া না নিতে পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অস্থায়ী পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে, মাতৃদুগ্ধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া টার্মিনালে যানবাহনের ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান। সচেতনতামূলক বিভিন্ন ব্যানার ঘাট এলাকায় রয়েছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমি সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

উল্লেখ্য, প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি ফেরার এই আনন্দ উৎসবের আমেজ এখন গোটা দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায়।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর