শরীয়তপুরের নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৪০ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি আগামীকালই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী একদিন আগেই ঈদ পালন করতে যাচ্ছে এসব এলাকার মানুষ।
জানা যায়, নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এ প্রথা প্রায় দেড়শ বছর ধরে চলে আসছে। দরবারটির প্রতিষ্ঠাতা সুফি সাধকের অনুসারীরা বিশ্বাস করেন—পৃথিবীর যে কোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে তা সর্বত্র প্রযোজ্য। সেই বিশ্বাস থেকেই তারা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন।
বিজ্ঞাপন

এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সুরেশ্বর, কেদারপুর, চাকধ, চন্ডিপুরসহ আশপাশের প্রায় ৪০টি গ্রামের মানুষ ইতোমধ্যে ঈদের প্রস্তুতি শেষ করেছেন। ঘরে ঘরে চলছে সেমাই, পায়েস ও নানা মুখরোচক খাবার তৈরির ব্যস্ততা। শিশু-কিশোরদের মধ্যে নতুন পোশাক নিয়ে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে, আর বড়দের মাঝে রয়েছে ধর্মীয় অনুশাসন পালনের এক গভীর তৃপ্তি।
সুরেশ্বর দরবার শরীফ সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় দরবার প্রাঙ্গণের পৃথক মাঠে ঈদুল ফিতরের দুটি জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নেবেন হাজারো মুসল্লি।
আরও পড়ুন
দরবার শরীফের এক ভক্ত জানান, আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকে আমরা এভাবেই ঈদ পালন করে আসছি। এটা শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। ঈদের দিন নামাজ শেষে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করি।
গদীনশীন পীর সৈয়দ বেলাল নূরী বলেন, চাঁদ একটাই, তাই পৃথিবীর যেখানেই চাঁদ দেখা যাবে, সেটিই আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য। সেই বিশ্বাস থেকেই আমরা একদিন আগে রোজা ও ঈদ পালন করি। প্রতি বছর হাজারো মুসল্লির অংশগ্রহণে এই আয়োজন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

ঈদকে ঘিরে এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও আনন্দের মেলবন্ধনে শরীয়তপুরের এই আগাম ঈদ উদযাপন যেন এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে দেশের ঈদ উৎসবে। যেখানে সময়ের পার্থক্য থাকলেও আনন্দ আর ইবাদতের আবেগ এক ও অভিন্ন।
প্রতিনিধি/এসএস

