ঈদে পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুরা যেন পরিবার-প্রিয়জন নিয়ে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতে পারেন সেজন্যে নাটোর উত্তরা গণভবন ও গ্রিন ভ্যালি পার্কে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, আনসার ও বিশেষ সিভিল সিকিউরিটি সদস্যরা নিরাপত্তায় সর্বক্ষণ দায়িত্বে থাকবেন।
নাটোরে পর্যটন শিল্পের মধ্যে অন্যতম উত্তরা গণভবন। ইতিহাসের স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন ও ঢাকার বাহিরে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বাসভবন খ্যাত এই প্রাসাদটি। ৪১ একর জমির ওপর বিস্তৃত এই বিশাল প্রাসাদের চারদিকে মনোরম লেক, সুউচ্চ প্রাচীর পরিবেষ্টিত ছোট-বড় ১২টি কারুকার্যখচিত ও দৃষ্টিনন্দন ভবন রয়েছে। যা আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে মাথা উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘উত্তরা গণভবন’। সবুজের সমারোহ আর নিবিড় ছায়া পর্যটকদের শান্তির পরশ।
বিজ্ঞাপন

এখানে প্রতিবছর ঈদে পর্যটকদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। ইতোমধ্যে গণভবনের ভেতরে ও বাইরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাজ শেষ করা হয়েছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে গণভবনের ভিতরে বাহারি সব ফুলের গাছ দিয়ে শোভাবর্ধন করা হয়েছে। ভ্রমণপ্রিয় মানুষের জন্য যেন এক স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কর্তৃপক্ষ গণভবনে প্রবেশদ্বারে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন। এ নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত সিভিল সিকিউরিটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেন পর্যটকরা তাদের পরিবার, প্রিয়জন নিয়ে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতে পারেন।

অন্যদিকে নাটোরের লালপুরে অবস্থিত গ্রিন ভ্যালি পার্কটি দেশের জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্রের মধ্যে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। প্রকৃতির মাঝে আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র। প্রায় ১২৩ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই পার্কটি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আধুনিক রাইডের এক অপূর্ব সমন্বয়। পার্কের ভেতরে প্রায় ৩০ একর জুড়ে বিস্তৃত একটি বিশাল নয়নাভিরাম লেক রয়েছে, যেখানে পর্যটকরা স্পিডবোট বা প্যাডেল বোটে চড়ে সময় কাটাতে পারেন। শিশুদের জন্য রয়েছে বিশেষ জোন। মিনি ট্রেন, বুলেট ট্রেন, নাগরদোলা, ম্যারি-গো-রাউন্ড, পাইরেট শিপ, হানি সুইং এবং একটি চমৎকার ওয়াটার পার্ক ও সুইমিং পুল। প্রতিবছর বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে এ পার্কে লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে। বিশেষ করে পার্কের ভেতর নানা প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের গাছ দিয়ে সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। যা দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের মুগ্ধ করবে।
বিজ্ঞাপন
পর্যটকদের জন্য নিরাপদ কার পার্কিং এবং সিসিটিভি দ্বারা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থাও রয়েছে। পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৪০ থেকে ৫০ জন নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। ফলে দূর থেকে আসা পর্যটকরা পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তভাবে ঘুরে বেড়ানোর এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।

উত্তরা গণভবনের সহকারী ব্যবস্থাপক খায়রুল বাশার ঢাকা মেইলকে বলেন, প্রতিবছরের মতো এবার ঈদেও দর্শনার্থীদের কথা চিন্তা করে গণভবনের সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সমাপ্ত হয়েছে। যেহেতু শীতের ফুলের মৌসুম পায় শেষ, তারপরেও গণভবনকে সাজাতে নতুনভাবে চমৎকার রূপে সাজানো হয়েছে। যা দর্শনার্থী ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। ঈদের দিন থেকে গণভবনে প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম ঘটছে আশা করছি। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও আনসার সদস্য সর্বক্ষণ দায়িত্বে থাকবে। এছাড়া এবারে প্রথম সিভিল সিকিউরিটির সদস্য রাখা হয়েছে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য। যেন দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতে পারেন।

গ্রিন ভ্যালি পার্কের পাবলিক রিলেশন অফিসার আব্দুল মোতালেব রায়হান ঢাকা মেইলকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে গিরিন ভ্যালি পার্কের নতুনরূপে সাজানো হয়েছে। যেন দূর দূরান্ত থেকে আসা পর্যটক ও দর্শনার্থীরা যেন পরিবার, প্রিয়জন নিয়ে সুন্দর একটি মুহূর্ত কাটাতে পারে সেজন্যে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশেষ করে পার্কের ভেতর দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে লক্ষাধিক লক্ষাধিক দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের মনোমুগ্ধকর ফুলের সমারোহ। এসব বিভিন্ন রঙের ফুলের গাছ দিয়ে সাজানো হয়েছে গেট আর ভালোবাসার প্রতীক লাভ। যা দর্শনার্থী ও মানুষকে প্রতি মুহূর্তে মুগ্ধ করবে এবং আনন্দ দেবে। যেন দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন, তাদের বিশেষ নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব পোশাকে ৩০ থেকে ৪০ জন নিরাপত্তা কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়াও পুরো পার্কের সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। যা কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
প্রতিনিধি/এসএস

