নির্জন এক বাগান। আট বছর বয়সী এক নিষ্পাপ শিশুকে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছে। তার কচি গলায় ঠেকানো রয়েছে একটি ধারালো হাসুয়া। একটু এদিক-সেদিক হলেই ঘটে যেতে পারে মর্মান্তিক পরিণতি। আর এই ভয়াবহ কাজটি অন্য কোনো অপরাধী নয়, করেছে খোদ শিশুটির জন্মদাতা পিতা! প্রবাসে থাকা স্ত্রীর কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করতে নিজের সন্তানকেই জিম্মি করার এই চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগরে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে আট বছর বয়সী শিশু সিয়ামকে অপহরণ করেন তার পিতা ও এক সহযোগী। এরপর শিশুটিকে ওই নির্জন বাগানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে ছবি তুলে পাঠানো হয় ভারতে অবস্থানরত শিশুটির মায়ের কাছে। দাবি করা হয় ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ।
বিজ্ঞাপন
এই টাকা না দিলে নিজের সন্তানকে গলা কেটে হত্যার পর লাশ গুম করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়। সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিরুপায় মা তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠিয়ে দেন। এরই মাঝে রোমহর্ষক এই ঘটনাটি জানতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খবর পাওয়া মাত্রই চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান কালক্ষেপণ না করে জীবননগর থানা পুলিশ ও ডিবি (সিসিআইসি) টিমকে দ্রুত ভিকটিম উদ্ধারের নির্দেশ দেন। শুরু হয় পুলিশের এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান।
অবশেষে মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে, একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে জীবননগর থানাধীন পাকা দাসপাড়া এলাকায় সফল অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ভিকটিম সিয়ামকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয় পাষণ্ড পিতা ও তার সহযোগীকে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার মোড়াকাটি গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মো. আজিজুল (২৮) এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে মো. আক্তার (২৬)।
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে নেওয়া নগদ ৭ হাজার টাকা ও হত্যায় ব্যবহৃত সেই ধারালো হাসুয়াটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভিকটিম শিশুর পিতা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, ‘প্রবাসে থাকা স্ত্রীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য একজন জন্মদাতা পিতা কর্তৃক নিজ সন্তানকে এমন নৃশংসভাবে জিম্মি করার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও ঘৃণ্য। সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/একেবি

