নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিনের নারী কেলেঙ্কারির একটা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে হাতিয়ায় মানুষের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। শাস্তির দাবি করেছেন অনেকে।
সোমবার দুপুর থেকে (১৭ মার্চ) সকাল পর্যন্ত ভিডিওটি হাতিয়ায় অসংখ্য ফেসবুক আইডিতে শেয়ার হতে থাকে।
বিজ্ঞাপন
ভিডিও নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। আনন্দবাজার ডটকম লাইভ নামে একটা পোর্টাল থেকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, ইউএনও আলাউদ্দিন হাতিয়ার বাইরে কোনো এক হোটেলে এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। এ নিয়ে ফেসবুকে নানা সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, সোমবার (১৬ মার্চ) উপজেলা পরিষদের মাসিক ও আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে পর্যন্ত ইউএনও উপস্থিত থাকেননি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কাজ আছে বলে একটা অযুহাত দেখিয়ে সকালে তিনি হাতিয়া ত্যাগ করেন বলে জানান ইউএনও’র দপ্তরের কর্মীরা। যার কারণে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সভাপতিত্বে যেনতেন ভাবে আধাঘণ্টার মধ্যে সভার কার্যক্রম শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানান নেতিবাচক গুঞ্জন শুরু হয়।
ফেসবুকে লোকমান হোসেন নামের একজন তার আইডিতে লেখেন, এই ভিডিও দিয়ে ব্লাকমেইল করে ইউএনওকে জাতীয় নির্বাচনে কাজে লাগানো হয়। পরে ইউএনও কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ায় হাতিয়ার এক কুচক্রি মহল এটি ভাইরাল করে দেয়।
মেহেদী হাসান নামের একজন লেখেন, হাতিয়া অবৈধ এমপি বানানোর প্রধান কারিগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিনের ভিডিও ভাইরাল।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া, অনেকে তাদের ফেসবুক আইডিতে নারী কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি করায় তার শাস্তির দাবি করেন।
আরও পড়ুন
আপত্তিকর ভিডিওর বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। পরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যম থেকে জেনেছেন। ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, এর পূর্বে ১২ মার্চ ‘আমাদের কণ্ঠ’ নামের একটি অনলাইন পোর্টালে- ‘দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আলোচনায় হাতিয়ার ইউএনও আলাউদ্দিন’ শিরোনামে নিউজ প্রকাশিত হয়। যেখানে উল্লেখ করা হয়, ইউএনও আলাউদ্দিন পূর্ববর্তী কর্মস্থল সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আর্থিক অনিয়মসহ নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে পদোন্নতি পেয়ে হাতিয়া উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।
অভিযোগ উঠে, ইউএনও আলাউদ্দিন হাতিয়াতে গত অর্থ বছরের টিআর-কাবিখা, পৌরসভা অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী সেলিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগসাজসে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে কোটি কোটি টাকা অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন।
বিশেষ করে চলতি অর্থবছরে হাট-ঘাট ইজারা, টিসিবি ও ইউরিয়া সারের ডিলার নিয়োগসহ জাতীয় নির্বাচনে কেন্দ্রসমূহে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্রিকফিল্ড মালিক জানান, যে ব্রিকফিল্ড থেকে মোটা অংকের টাকা দেওয়া না হয়, সে ব্রিকফিল্ড অবৈধ বলে জরিমানাসহ চিমনি ভেঙে দেন ইউএনও আলাউদ্দিন।
প্রতিনিধি/টিবি

