নওগাঁয় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কলা, ভুট্টা, গম, আলু ও শাকসবজিসহ ৭৩১ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কলা বাগানে।
রোববার (১৫ মার্চ) রাতে জেলার ১১টি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ২০ মিনিটের ঝড়বৃষ্টিতে এসব ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
বিজ্ঞাপন
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ২২৫ হেক্টর জমির কলা, ২১৬ হেক্টর জমির ভুট্টা, ২১৬ হেক্টর জমির গম, ২৫ হেক্টর জমির আলু এবং ৪৯ দশমিক ৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঝড়ে প্রায় ১৬৭ কোটি টাকার কলা এবং ৫ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ভুট্টা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন মাঠ ও বাগান ঘুরে দেখা গেছে, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কলা, পেঁপে, ভুট্টা, গম, আলু ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল মাটিতে হেলে পড়েছে। অনেক কলা বাগানের গাছের মাথা বাতাসে ভেঙে গেছে। এর মধ্যে অধিকাংশ কলাই পরিপক্ক হওয়ার পথে ছিল এবং এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই কৃষকের ঘরে ওঠার কথা ছিল। কলার কাঁদি নষ্ট হওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা।
পেঁপে বাগানেও একই ধরনের ক্ষতি হয়েছে। অনেক জমির গমের শীষ ভেঙে পড়েছে, হেলে পড়েছে ভুট্টার গাছও। বৃষ্টির পানিতে আলু ও শাকসবজির জমিতে পানি জমে গেছে।
বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের কুশারমুড়ি গ্রামের কলা চাষি জুয়েল রানা বলেন, ‘গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার প্রায় ৬ বিঘা জমিতে কলার বাগান করেছিলাম। এক রাতের কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আমার বাগানের অর্ধেকেরও বেশি গাছ ভেঙে পড়েছে। বেশিরভাগ কলা বাজারে তোলার উপযোগী হয়ে উঠছিল। আর এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেল। এক রাতের ঝড়ে আমার আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হলো।’
বিজ্ঞাপন
নওগাঁ সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের চুনিয়াগাড়ী গ্রামের কৃষক আহসান হাবীব বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের মতো করে কালবৈশাখী হানা দিয়ে মুহুর্তের মধ্যেই আমার ২ বিঘা জমির গম হেলে দিয়েছে। এসব গমের শীষ মাত্র পরিপক্ক হওয়ার পথে। এই সময়ে প্রাকৃতির এই দুর্যোগ সব লণ্ডভণ্ড করে দিল। আবহাওয়া যদি দ্রুত ভালো না হয়, তাহলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন, গত রাতের ঝড় বৃষ্টিতে যেসব জমির কলা, ভুট্টা এবং পেঁপে নষ্ট হয়েছে, সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া আর সম্ভব নয়। এটি চাষিদের চূড়ান্ত ক্ষতি।
তিনি আরো বলেন, বৈরী আবহাওয়া শুরু হওয়ায় বর্তমানে কৃষকদের পরিপক্ক হওয়া ফল ও ফসল দ্রুত উত্তোলনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বোরো ধান রক্ষায় চাষিদের বেশি সতর্ক হতে বলা হচ্ছে। কারণ এই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে বর্তমানে মাঠে থাকা বোরো ধানে ব্লাস্টের আক্রমণ দেখা দিতে পারে। তাই ধানের শীষ গজানো শুরু করলেই ব্লাস্টের প্রথম স্প্রে দিতে হবে এবং এক সপ্তাহ পর দ্বিতীয় স্প্রে দিতে হবে। এটা যেনো কৃষকরা কোনভাবেই অবহেলা না করেন সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক মাহবুবুল বলেন, রোববার রাত ১০টা থেকে ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ২০ মিনিটের ঝড়ে নওগাঁয় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়। একই সময়ে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মোট ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এমআর

