মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

আসামি ধরতে গিয়ে ‘মবের’ শিকার ওসি!

জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

আসামি ধরতে গিয়ে ‘মবের’ শিকার ওসি!

কুড়িগ্রামের উলিপুরে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার ঘটনায় আসামি ধরতে গিয়ে মবের স্বীকার হয়ে ফিরে এসেছেন থানা পুলিশ। ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে রেখে একদল নারী ও পুরুষ আইনের কাজে বাধা দিয়ে মব সৃষ্টি করেছেন- এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি ঘটেছে, রোববার (১৫ মার্চ) উপজেলার গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকায়।


বিজ্ঞাপন


মবের বিষয়টি উলিপুর থানার ওসি স্বীকার করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকার মাহাবুবার রহমানের (৪৫) সঙ্গে প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধা আজিজ সরকারের (৭০) দীর্ঘদিন থেকে জমি-জমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের কারণে একাধিক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।

এদিকে ১০ মার্চ বিকালে মাহাবুবার রহমান ও তার ভাই মিজানুর রহমানের (৩০) নেতৃত্বে কয়েকজন দুর্বৃত্ত প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এ সময় আসামিরা বাড়িতে থাকা মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সামছুন্নাহার বেগম ও কন্যা আফ্রিদা আজিজ সাথিকে মারধর করে শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং বসত ঘরে থাকা আসবাবপত্র ভেঙে টাকা চুরি করে। 

এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার পুত্রবধূ হাজেরা খাতুন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেন। এরপর থানা পুলিশ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে রোববার (১৫ মার্চ) মামলা গ্রহণ করেন।


বিজ্ঞাপন


মামলার বাদী হাজেরা খাতুন বলেন, মাহাবুবার রহমান ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে আদালতে চলমান মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমার শ্বশুর স্ট্রোকের রোগী হওয়ায় চলাফেরা করতে পারেন না। এছাড়া স্বামী চাকরির সুবাদে বাহিরে থাকায় বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ থাকেন না। এ সুযোগে তারা বাড়িতে থাকা মহিলাদের সব সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। হামলার ঘটনায় মাহাবুবার রহমানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই এলাকায় গেলে তাদের অবরুদ্ধ করে রেখে মব সৃষ্টি করা হয়। এ সময় একদল নারী-পুরুষ পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে হট্টগোল শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসে।

এ বিষয়ে মাহাবুবার রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাড়িতে পুলিশ আসার কথা স্বীকার করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা কারো বাড়িতে আক্রমণ করিনি। পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই মিথ্যা মামলা নিয়েছে। পরপর দুইবার পুলিশ এসেছিল। পুলিশ মামলার কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি। তারা আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার তথ্যের ব্যাপারে থানায় ডাকেন।

পুলিশকে অবরুদ্ধ করে মব সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা মিথ্যা হওয়ায় প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেছেন।

উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার ঘটনায় তার পুত্রবধূ ১১ মার্চ থানায় অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রোববার থানায় মামলা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ আসামি ধরতে গেলে আসামিরা নারী এবং ভাড়াটিয়া লোকদের দিয়ে এলাকায় মব সৃষ্টি করে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে। ফলে পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। পরে আমি ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুনরায় মব সৃষ্টি করে আমাকেও অবরুদ্ধ করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর