বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

‘জ্বালানি সংকট নয়, আছে নাশকতার শঙ্কা’

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

শেয়ার করুন:

‘জ্বালানি সংকট নয়, আছে নাশকতার শঙ্কা’
বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
  • নিরাপত্তা চেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ
  • অগ্রাধিকার বার্থিং সুবিধায় চলছে জ্বালানি খালাস
  • চলতি মাসেই যুক্ত হচ্ছে তিন লাখ ৩৬ হাজার টন ডিজেল

মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে পারস্য উপসাগরের দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জ্বালানি তেল ও গ্যাসবাহী ৬টি জাহাজ থেকে খালাস শুরু হয়েছে। এর আগে আটটি জাহাজ খালাস শেষ করে বন্দর ত্যাগ করেছে।


বিজ্ঞাপন


জ্বালানি নিয়ে আরও ২টি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় রয়েছে। এলএনজি ও ডিজেলবাহী আরও দুটি জাহাজ আগামী ১২ ও ১৪ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। সবমিলিয়ে চলতি মাসে তিন লাখ ৩৬ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে (বিপিসি) যোগ হচ্ছে।

ফলে দেশে তাত্ক্ষণিক জ্বালানি সংকটের শঙ্কা নেই। তবে দেশি-বিদেশি অপশক্তি জাহাজে নাশকতা চালাতে পারে—এ ধরনের শঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বহিঃসাগরে থাকা জাহাজগুলোর নিরাপত্তা চেয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১১ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি ত্যাগ করা ১৮টি জাহাজ এলএনজি, এলপিজি, বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল ও শিল্পকারখানার কাঁচামাল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।


বিজ্ঞাপন


এর মধ্যে আটটি জাহাজ খালাস শেষ করে বন্দর ত্যাগ করেছে। বর্তমানে ৬টি জাহাজ থেকে খালাস কার্যক্রম চলমান। আরও ২টি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় রয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে আরও ২টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে।

picture

সব মিলিয়ে আগামী দেড় মাসের জ্বালানি পাইপলাইনে রয়েছে। তাই তাত্ক্ষণিক সংকটের শঙ্কা নেই, তবে নাশকতার আশঙ্কা আছে। এ কারণে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডকে জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর চারটি জ্বালানিবাহী জাহাজে রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন নাশকতার চেষ্টা হতে পারে।

চলতি মাসেই যুক্ত হচ্ছে আরও তিন লাখ ৩৬ হাজার ৩৭৯ মেট্রিক টন ডিজেল। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুদ্ধপরিস্থিতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পরিবর্তে বিকল্প দেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১১টি চালানে আসছে দুই লাখ ৮১ হাজার ৩৭৯ মেট্রিক টন ডিজেল। বাকি ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল যুক্ত হবে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডসহ দেশে স্থাপিত অন্যান্য পেট্রোলিয়াম প্ল্যান্ট থেকে।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে পরপর ৩টি কার্গো জাহাজে হামলা

এরই মধ্যে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের জন্য নির্ধারিত একটি মাদার ভেসেল সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে। এমটি নর্ডিক পলাঙ নামের জাহাজটি গত ২ মার্চ চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এটি এখনও বন্দরে নোঙর করে আছে।

ডবপিসি জানিয়েছে, চলতি মার্চে ১১টি চালানে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা ডিজেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করবে। ইতিমধ্যে ৩ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ৩২ হাজার ১৬৯.০৭ টন ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ। এছাড়া ৯ মার্চ ২৭ হাজার ২০৪.৬৬ টন ডিজেল নিয়ে শিউ চি নামের ট্যাংকার বন্দরে প্রবেশ করেছে।

শিপিং এজেন্টদের তথ্য অনুযায়ী, ১০ মার্চ রাতে লিয়ান হুয়ান হু নামের একটি ট্যাংকার ২৭ হাজার ৫.৪৭ টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। এছাড়া ১২ মার্চ এসপিটি থেমিস নামের জাহাজ ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। র‌্যাফেলস সামুরাই ও চাং হাং হং তু নামের আরও দুটি ট্যাংকার ১৩ মার্চ বন্দরে পৌঁছাবে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে।

picture

বিপিসি সূত্র জানায়, চলতি মার্চে আরও ২৪, ২৫ ও ২৭ তারিখে বিভিন্ন জাহাজে মোট ১ লাখ টন ডিজেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। দেশীয় পেট্রোলিয়াম প্ল্যান্ট থেকে আরও ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাওয়া যাবে।

চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় এজেন্ট প্রতিষ্ঠান প্রাইড শিপিং লাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যে সব জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে। এরপর ধাপে ধাপে খালাস কাজ শুরু হবে।

আরও পড়ুন: হরমুজে মাইন বসানো ইরানের ১৬টি নৌযান ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সব চাহিদা সমন্বিতভাবে নিরূপণ করা হচ্ছে এবং জাহাজগুলিকে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বন্দরের জ্বালানি তেলের সাপ্লাই চেইন ও বাংকারিং নিশ্চিত করতে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্ক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া কেন্দ্রিক জাহাজ ও সরবরাহের কারণে বৈশ্বিক ভ‚রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব নগণ্য।

প্রসঙ্গত, দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেল। প্রতিদিন গড়ে ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে, যার বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে, যার বড় অংশই জ্বালানি পণ্য। তবে প্রণালির অস্থিতিশীলতা নতুন জাহাজ আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর