মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্পটিকে কেবল স্থানীয় কোনো অবকাঠামো নয়, বরং পুরো নোয়াখালী অঞ্চলের টিকে থাকার লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে প্রস্তাবিত ‘মুছাপুর রেগুলেটর ও সমন্বিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ’ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
প্রকৃতির বৈরী আচরণের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং আমাকে সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন। নোয়াখালী ও এর জনগণকে বাঁচাতে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”
পরিদর্শনে সফররত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, রেগুলেটরের অভাবে নদী ভাঙন এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর দুই পাড়ই তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে।
মন্ত্রী মিন্টু আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “পরবর্তী একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত রেগুলেটর ও ক্লোজারের নির্মাণকাজ শুরু হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রী প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় ইতিমধ্যে প্রাথমিক কাজ এগিয়ে রেখেছেন, যার সুফল স্থানীয়রা অদূর ভবিষ্যতে দেখতে পাবেন।”
প্রস্তাবিত ‘মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১)’ প্রকল্পটির মাধ্যমে লোনা পানি নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় কৃষি ও বসতভিটা রক্ষায় বড় ধরনের সুরক্ষা কবজ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
পরিদর্শনকালে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্যাহসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য নূরুল আলম সিকদার।
এছাড়াও জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি নেতারা এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রতিনিধি/একেবি

