হবিগঞ্জের বাহুবল ও চুনারুঘাটে মানবাধিকার সংগঠনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে অসহায় নারীদের ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল ও পর্নোগ্রাফি চক্রের মূল হোতা কথিত মানবাধিকার নেতা নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুল হককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯।
রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় র্যাব-৯-এর শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল চুনারুঘাট এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃত নুরুল হক নিজেকে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সিলেট বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুল হক ‘দরিদ্র কল্যাণ সংস্থা’ ও ‘মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা’ নামের দুটি সংস্থার নাম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এক ভয়াবহ অনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। অসহায়, দরিদ্র পরিবারের কিশোরী, তরুণী এবং স্বামী-পরিত্যক্ত নারীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তিনি তাদের লন্ডনে পাঠানোর প্রলোভন দেখাতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুক্তভোগীদের ফোন-সেক্স ও ধর্ষণে বাধ্য করতেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চুনারুঘাট উপজেলার এক তরুণী বছরখানেক আগে নুরুল হকের সংস্থায় অফিস সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই নুরুল হক তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মহাশয়ের বাজারে তার কার্যালয়ের ভেতরেই তাকে প্রথমবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ধর্ষণের সময় নুরুল হক কৌশলে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টানা পাঁচ মাস তাকে জিম্মি করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৯ সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর একটি আভিযানিক দল চুনারুঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি নুরুল হককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাহুবল মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, মামলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পলাতক থাকা অবস্থায় র্যাবের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখন তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/এসটি

