কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা কারিতাস বাংলাদেশের ওয়াশ (পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি) কার্যক্রমের একটি গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুদামে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে গেছে। প্রাথমিক হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন
রোববার (৮ মার্চ) দুপুর প্রায় ২টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া এলাকায় অবস্থিত ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কারিতাসের ওই গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়।
কারিতাসের ওয়্যারহাউজ সুপারভাইজার তারিক উদ্দিন জানান, গুদামটি মূলত একটি ক্যাম্পের ওয়াশ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হতো। এখানে পানি ও স্যানিটেশন সংক্রমিত বিভিন্ন সরঞ্জাম, পাইপ, প্লাস্টিক সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ মজুত ছিল। আগুনে এসব মালামালের বেশিরভাগই পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কারিতাসের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর উত্তম কুমার জানান, দুপুর ২টা থেকে ২টা ৫ মিনিটের মধ্যে আগুনের ঘটনা ঘটে। সে সময় নামাজ পড়ছিলেন এমন দুইজন কর্মী আগুনের শব্দ শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখেন, লাইনের শেষ ঘরের ছাদের ওপর প্রথমে আগুন লাগে। এরপর মাত্র দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই পুরো ওয়্যারহাউস আগুনে পুড়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, গুদামটি বাঁশ ও নেট দিয়ে তৈরি হওয়ায় এবং ভেতরে প্লাস্টিক ও বিভিন্ন মেরামত সামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে তার আগেই অধিকাংশ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা জানান, প্রথমে নিকটবর্তী স্যাটেলাইট ফায়ার স্টেশন থেকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে উখিয়া ফায়ার স্টেশন থেকে আরও চারটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি বলেন, আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। গুদামটিতে রোহিঙ্গাদের জন্য কারিতাস বাংলাদেশের সরবরাহ করা প্লাস্টিক সামগ্রী, বস্তা ও বিভিন্ন গৃহস্থালি উপকরণ মজুত ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, স্টোর হাউসের পশ্চিম-দক্ষিণ কোণা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্তের পরই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
উখিয়াস্থ ১৪ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মৃত্যুঞ্জয় দে সজল বলেন, আগুনের সূত্রপাতের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুরো গুদামটি পুড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রতিনিধি/ এজে

