ভোলায় মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা 'ভোলার চর' দখলকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে মো. সুমন (৩০) নামের এক চাষি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
রোববার (৮ মার্চ) সকালে ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা ‘ভোলার চরে’ এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে, গতকাল শনিবার চরটি দখলের আশঙ্কায় আহত সুমনের চাচাতো ভাই রুবেল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওই সময় পুলিশ কাউকে না পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসেন এবং আজ সকালে পুনরায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত সুমন রাজাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নাসির সর্দারের ছেলে।
সুমন ও তার স্বজনদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে নদীগর্ভে বিলীন হওয়া জমিতে নতুন করে জেগে উঠেছে ‘ভোলার চর’। চর জেগে ওঠার পর জমির প্রকৃত মালিকরা সেখানে চাষাবাদ শুরু করেন এবং কেউ কেউ নগদ খাজনায় জমি লিজ দিয়ে চাষাবাদ চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি সেখানে প্রায় ২০০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে।
তাদের দাবি, গেল ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র চরটি দখলের চেষ্টা করেন এবং সেখানে চাষাবাদ করা কৃষকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করতে থাকেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
সুমন বলেন, রোববার সকালে তিনিসহ কয়েকজন চাষি একত্রিত হয়ে জমিতে কাজ করছেন। এসময় খোকন চৌধুরী, মিন্টু খাঁ, হালিম খাঁসহ একদল সন্ত্রাসী তাদের উপর অতর্কিত গুলি ছুঁড়লে তাতে সুমন গুলিবিদ্ধ হন এবং অন্যরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় উপযুক্ত বিচারের দাবি জানিয়েছেন আহত সুমনের পরিবার। তারা জানান, একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে তাদের উপর অত্যাচার জুলম নির্যাতন করে আসছেন। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে উপযুক্ত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, চরের জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গতকাল বিভিন্ন পক্ষের লোকজন চরে অবস্থান নিয়েছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। তবে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিনিধি/এসএস

