গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। মহাসড়কের সালনা থেকে দু’ধারে ভাওয়াল শাল গজারি বন। চারলেনের এই মহাসড়কে তীব্র গতিতে ছুটে চলছে বিভিন্ন যানবাহন। এরই মঝে সড়ক বিভাজকের মাঝখানে লাগানো গাছে সাদা-গোলাপী ফুলের সৌন্দর্যে সেজেছে প্রকৃতি। যেন সড়ক বিভাজকে ফুলের স্বর্গরাজ্য। এই সৌন্দর্যে মুগ্ধ পরিবহনের চালক, যাত্রী এবং সাধারণ মানুষ।
অপরূপ এ দৃশ্য দেখতে আসছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন মোবাইল বা ক্যামেরায়। বাসের জানালা দিয়ে যাত্রীরাও তুলছেন ছবি। ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল এই এক খণ্ড বসন্ত প্রকৃতি।
বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শুরু। মহাসড়কের সামনে কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পরই চোখে পড়ে মহাসড়কের দুই পাশে ভাওয়ালের শাল গজারি বন। মাঝে মধ্যে সড়কের দুই পাশে শিল্প কলকারখানা, ইট পাথরের অবকাঠামো থাকলেও এরই মাঝে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে ওই মহাসড়কের বিভাজকের মাঝে নানা রঙের ফুলের সমাহার। মনে হবে চলাচলকারীদের যেন অভ্যর্থনা জানাচ্ছে লালচে গোলাপি ও সাদার সংমিশ্রণযুক্ত ফুলগুলো। কাছে যেতেই যে কারও ইচ্ছা হবে এক মুহূর্তের জন্য হলেও থমকে দাঁড়াতে, হাতের পরশ বোলাতে। নজরকাড়া সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে গাড়ি থামিয়ে ফুলের সঙ্গে মিতালী গড়তে। শুধু যাত্রী চালক নয়, ফুলের মনমাতানো সৌন্দর্য দেখতে আসছেন বিভিন্ন স্থান থেকে পথচারীসহ সাধারণ মানুষ।

জেলার চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ১৩ ফুট সড়ক বিভাজক। এই বিভাজকে লাগানো সবুজ বৃক্ষরাজিতে যেন বসন্তের চিরায়ত রূপ। সবুজ প্রকৃতি, আর বর্ণিল ফুলের সাজ প্রকৃতি প্রেমীদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে ইট পাথর ঘেরা শহর ছেড়ে সড়ক বিভাজকের ওপর সবুজের সমারোহ ও তারসঙ্গে বিভিন্ন ফুলের বর্ণিল ছটা দেখে পরিবহন যাত্রীদের মন প্রাণ জুড়িয়ে যাচ্ছে। মহাসড়কে ভ্রমণ আনন্দদায়ক ও পরিবেশবান্ধব করতে ঋতুর সঙ্গে মিল রেখে এসব প্রজাতির গাছ এবং ঋতুভিত্তিক ফুলগাছ রোপণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটির বিভাজকের ওপর ফুলের বাগানে রয়েছে নীল কাঞ্চন, কামিনী, কৃষ্ণচূড়া, জোড়া টগর, রাধাচূড়া, অগ্নিশ্বর, পলাশ, গৌরীচূড়া, কনক চূড়া, কনক চাঁপা, কদম, কাঠ বাদাম, জারুল ও রক্ত করবীসহ আরও কয়েক প্রজাতির ফুলের গাছ। বছরজুড়ে ফুল ফোটে এসব গাছে। এছাড়া এক লেনের গাড়ির হেড লাইটের আলো যাতে বিপরীত লেনের গাড়ির ওপর না পড়ে, সেই জন্য ডিভাইডারের ওপর বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়। এতে কোথাও ফুলের বাগান আবার কোথাও সবুজ বৃক্ষের সমারোহ সৃষ্টি হয়েছে।
তেলিপাড়া থেকে আসা স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ হোসেন বলেন, ফেসবুকে ভাইরাল ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফুলের সৌন্দর্য সরাসরি দেখতে এখানে এসেছি। ফুলগুলো আসলেই অনেক সুন্দর।

ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ থেকে দলবলে এসেছেন নাঈম ও তার বন্ধুরা। নাঈম বলেন, আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে এ ফুলের খবর পেয়ে কয়েকজন মিলে ফুল দেখতে এলাম। মনে হচ্ছে এটি বিদেশি কোনো রাস্তা। দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে ভ্রমণের ক্লান্তি অনেকটাই কেটে যাবে।
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুহাম্মদ তারিক হাসান জানান, মহাসড়কে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। এতে ২-৫ মিটার প্রস্থের স্থানে ৩টি সারিতে এবং ১-২ মিটার প্রস্থের স্থানে ১টি সারিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। গাছগুলো নিয়মিত পরিচর্যাও করা হয়। এরই মধ্যে মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় গাছগুলো যাত্রীদের নজর কাড়ছে। গাছগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপকভাবে অবদান রাখবে।
প্রতিনিধি/টিবি

