গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের বেশ কয়েকটি পয়েন্ট এবার যানজটের আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা। বিশেষ করে নবীনগর চন্দ্রা মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় প্রতিবারের ন্যায় যানজটের প্রকোপে পড়তে পারেন লাখো যাত্রী। মহাসড়কে ট্রাফিক আইন না মানা, বেপরোয়া অটোরিকশা চলাচল, অবৈধ পার্কিং ও যত্রতত্র যাত্রী উঠানামার কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এই মহাসড়কে। এছাড়া ফুটপাত দখল করে ভাসমান দোকান পাট, বাজার বসায় মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ বলছে, চন্দ্রা ত্রিমোড়সহ দুটি মহাসড়কের যানজটপ্রবণ স্থানগুলোয় যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় পার হয়ে দেশের উত্তর বঙ্গে চলাচল করে ১৮ টি জেলার বিভিন্ন যানবাহন। ঈদ মৌসুমে এই মহাসড়কের কোনাবাড়ি, সফিপুরসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় গাড়ির লম্বা সারি। বিশেষ করে, নবীনগর চন্দ্রা মহাসড়কে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গাড়ির চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঢল বাড়তে থাকলে চন্দ্রা কেন্দ্রিক এই যানজট ছড়ায় কয়েক কিলোমিটার জুড়ে। এতে প্রতিবছর ঈদযাত্রায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিড়ম্বনায় পড়েন ঘরমুখো মানুষ।
বিজ্ঞাপন

যাত্রী ও চালকরা বলছেন, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ গাড়ি পার্কিং, এলোমেলো হয়ে জটলা সৃষ্টি, যত্রতত্র যাত্রী উঠানামার পাশাপাশি ট্রাফিক আইন না মানার কারণে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যানজট লেগে থাকে। এছাড়া মহাসড়কে বেপরোয়া অটোরিকশা চলাচল, ত্রুটিপূর্ণ লেনের কারণে গাড়ির গতি মন্থর হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ চালকদের।
এনা পরিবহনের চালক ফাইজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে বাস ছাড়ার পর চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যানজটে পড়তে হয়। মহাসড়কে লেনগুলো প্রাচীর থাকায় ইচ্ছেমতো গাড়ি ঘোরানো বা অতিক্রম করা যায় না। এতে গাড়ির লম্বা লাইন তৈরি হয়। এছাড়া অটোরিকশার এলোমেলো চলাচল ও বাড়তি গাড়ি, মানুষের চাপে এ মহাসড়কে ঈদ যাত্রায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বিজ্ঞাপন
এদিকে, গাজীপুরের টঙ্গী থেকে শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা পর্যন্ত অংশে ঈদে যানজটের শঙ্কা কাটছে না। এই মহাসড়কের টঙ্গীর স্টেশন রোড, কলেজ গেইট, বোর্ড বাজার, চান্দনা চৌরাস্তা, সদর উপজেলার ভবানীপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড, হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ড, বাঘের বাজার বাসস্ট্যান্ড ও শ্রীপুর উপজেলার মাস্টারবাড়ি বাজারে যানজটের শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া বিআরটি প্রকল্পের ভুল- ত্রুটিপূর্ণ নকশা, মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়, চান্দনা চৌরাস্তার ফ্লাইওভার খুলে না দেওয়ায় এবারও চান্দনা চৌরাস্তায় ভোগান্তি সৃষ্টি হতে পারে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আরও দুটি স্থানেও যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে, সিডস্টোর বাজার ও ভালুকা বাসস্ট্যান্ড। গাজীপুর জেলায় যানজটের এসব স্থান চিহ্নিত করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাগুলো।

এছাড়া অটোরিকশার দৌরাত্ম্য, ভাসমান দোকানপাট, ঈদে এই রুটটিতে যানজট হবে বলে শঙ্কা যাত্রী ও চালকদের।
রাজিব পরিবহনের চালক সাইফুল বলেন, বিআরটি প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এই প্রকল্পের স্টেশনগুলোতে রাস্তা সরু থাকায় স্বাভাবিক সময়ে যানজট সৃষ্টি হয়। ঈদে মানুষের ঢল ও গাড়ির চাপ বাড়লে দুর্বিষহ যানজট সৃষ্টি হতে পারে।
একই আশঙ্কার কথা বলেন গাজীপুর পরিবহনের যাত্রী খালেদ হোসেন। তিনি বলেন, চান্দনা চৌরাস্তায় মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় বানানো হয়েছে। এতে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান পাট ও বাজার বসানো হয়েছে। তদারকির অভাবে বেপরোয়াভাবে চলছে অটোরিকশা। এসব নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এই মহাসড়কে ঈদযাত্রায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলছে, এবার ঈদযাত্রায় চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যত্রতত্রভাবে গাড়িতে যাত্রী ওঠানামা ও এলোমেলো পার্কিং সহ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এছাড়া ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে বেশ কয়েকটি পয়েন্ট যানজটপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে মহাসড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দীন বলেন, মহাসড়কে যান চলাচলে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে যাত্রীদের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশের ৮৭২ জন সদস্য ছাড়াও পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ ও মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় রেকার রিজার্ভে রাখা হবে।

ঈদযাত্রায় চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ৫৫ -৬০ হাজার যানবাহন চলাচল করে বলে জানিয়েছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ হাজার মানুষ চলাচল করে। ঈদের আগে মহাসড়কের যানজটপ্রবণ এলাকায় বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়াসহ অবাধে অটোরিকশা চলাচল, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার দাবি করেছেন যাত্রী ও চালকরা।
প্রতিনিধি/এসএস

